• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

প্রকাশ্যে খুন সন্ত্রাসী মামুন-ভোটের আগেই মাঠে সন্ত্রাসীরা


প্রকাশিত: ৬:০৮ পিএম, ১০ নভেম্বর ২৫ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

নড়েচড়ে বসছে সন্ত্রাসীরা।গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫)। সে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পায়।

 

 

লাবণ্য চৌধুরী : ভোটের আগেই নড়েচড়ে বসছে সন্ত্রাসীরা। ১৩ নভেম্বরের আগেই গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫)। সে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পায়। সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ মে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামুনসহ ৬ জন খালাস পান। তবে ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় একই ট্রাইব্যুনাল।

সেই সন্ত্রাসী মামুনকে এবার গুলি করে হত্যা করল প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীরাই। সন্ত্রাসীরা মামুন ৫টি গুলি করলেও তিনটা গিয়ে মামুনের শরীরে লাগে। বাকি গুলি গিয়ে লাগে হাসপাতালের জানালার গ্লাসে। প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী মো. তারেক দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানান, ঢাকার কোর্ট পাড়ার কাছে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে এই গোলাগুলির ঘটনায় মামুনকে হত্যা করা হয়।আইনজীবী মেহেদী হাসান দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, মামুন আদালতে এসেছিলেন ২৮ বছর আগের এক মামলায় হাজিরা দিতে, ফেরার পথে গুলিতে নিহত হন তিনি। সোমবার বেলা ১১টার দিকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান সামী জানান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামুনের বিরুদ্ধে মামলা হয় ১৯৯৭ সালে। ২৫ বছরের যুবক জাহিদ আমিন ওরফে হিমেলকে ১৯৯৭ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে মোহাম্মদপুর পিসি কালচার হাউজিং এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সেদিন হিমেলের বন্ধু সাইদও আহত হয়। এ ঘটনায় হিমেলের মা জাফরুন নাহার সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর তারিক সাইফ মামুনসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অপর আসামিরা হলেন-ওসমান, মাসুদ ওরফে নাজমুল হোসেন, রতন, ইমন এবং হেলাল।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মমিনুন নেসার আদালতে এদিন মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক ছিল। এসময় আদালতে হাজিরা দেন মামুন। তবে কোনো সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। এজন্য আদালত আগামি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন ঠিক করে।আদালত থেকে বের হন মামুন, এরপর যান ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে। ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, ১০টা ৫১ মিনিটের দিকে হাসপাতাল থেকে তিনি বের হচ্ছিলেন। প্রধান ফটক পার হয়ে একটু সামনে রাস্তায় গেলে দৌড় দিয়ে আবার হাসপাতালের ভেকরে ঢুকে পড়েন। তখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা লোকজনকেও ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।

হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী মো. তারেক দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানায়, মামুনের গায়ে তিনটি গুলি লেগেছে। তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নেয়া হলে অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত মামুনকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। পরে শুনেছি সেখানে তিনি মারা গেছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে জানায়, গুলিবিদ্ধ মামুন এর কাছে একজন ভিক্ষুক খাবারের জন্য টাকা ভিক্ষা চেয়েছিলেন। সেই টাকা দিতে নাকি তিনি হাসপাতালে এসেছিলেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, তিনি গাড়ি পার্কিং করতে এসেছিলেন।

মামুনের আইনজীবী মেহেদী হাসান বলেন, তিনি (মামনু) আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।মামলাটি ১৯৯৭ সালের। সাক্ষীরা আসে না। আদালতকে মামলাটি শেষ করার জন্য বলি। পরে আবার সাক্ষীর জন্য তারিখ ধার্য করা হয়।মামুন কেন হাসপাতালে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তো বলতে পারবো না। আমার অন্য মামলা থাকায় আমি চলে গিয়েছিলাম। তিনিও আদালত থেকে বের হয়ে যান।

আমি জানি না। সে কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত না। কারা তাকে হত্যা করেছে, কী কারণে করেছে আমার জানা নেই। আদাতলপাড়ার ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা যায়, ফুলহাতা টিশার্ট পরিহিত মামুন দৌড়ে এসে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফটকের সামনে দিয়ে প্রবেশ করেন এবং মাস্কে মুখ ঢাকা এবং ক্যাপ পরা দুই যুবক পেছন পেছন এসে পিস্তল দিয়ে গুলি করে চলে যায়।

জানা গেছে, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০ বছরের বেশি সময় জেল খেটে ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান মামুন। তিন মাসের মাথায় তেজগাঁও বিজি প্রেস এলাকায় তাকে হত্যার চেষ্টা হয়।সে সময় রাস্তার ওপর মামুনের গাড়ি আটকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হলে ভুবন চন্দ্র শীল নামে এক আইনজীবী গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।হামলার লক্ষ্যে থাকা মামুনকে খুন করতে না পারলেও সে সময় চাপাতি দিয়ে কোপায় হামলাকারীরা।

মামুন সে সময় পুলিশকে বলেছিলেন, তেজগাঁওয়ের ওই হামলার পেছনে পুলিশের আরেক তালিকাভুক্ত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ সানজিদুল ইসলাম ইমনের হাত রয়েছে।সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় গত বছরের ৯ মে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামুনসহ ৬ জন খালাস পান। তবে ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় একই ট্রাইব্যুনাল।