• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

‘পিডব্লিউডিকে ভূমিকা রাখতে হবে’ দেশব্যাপি গ্রীণ বিল্ডিং বাস্তবায়নে জোর শিল্প ও পরিবেশ উপদেষ্টার


প্রকাশিত: ৩:২৮ এএম, ১৮ নভেম্বর ২৫ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘গ্রীণ বিল্ডিং নির্মাণে পিডব্লিউডিকে অগ্রণী ভূমিকায় রেখে দেশব্যাপি গ্রীণ বিল্ডিং বাস্তবায়নে জোর দিলেন পরিবেশ-শিল্প উপদেষ্টা, সিনিয়র প্রকৌশলী ও স্থপতিবিদরা। বক্তারা বলেন, কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর গ্রিন বিল্ডিংয়ের বাইরে গেলে চলবে না। বাধ্যতামূলক নীতি থাকলে কম পানি ব্যবহার, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

গতকাল রোববার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর গণপূর্ত ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট, গ্রিন প্রকিউরমেন্ট এবং গ্রিন বিল্ডিং’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম, প্রধান স্থপতি মো. আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক মাহমুদ আলী বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, আদালত ও এতিমখানার ভবনের বর্তমান অবস্থা ভালো নয়। সেগুলোকে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কাঠামোয় সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে। তিনি শহরের জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান এবং সব সরকারি ভবনকে পরিবেশের সহায়ক হিসেবে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সব সরকারি ভবনকে গ্রিন বিল্ডিং হিসেবে নির্মাণ করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর গ্রিন বিল্ডিংয়ের বাইরে গেলে চলবে না। বাধ্যতামূলক নীতি থাকলে কম পানি ব্যবহার, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, দেশের নির্মাণশিল্পকে আধুনিকায়ন করতে হলে সরকারি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। লেকগুলো ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য নয়, এগুলো মানুষের জন্য। প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্নয়নের নামে বাণিজ্যিক কার্যক্রম করা চলবে না। পাশাপাশি কমিউনিটি ও সরকারের দায়িত্বের সীমানা স্পষ্ট করাও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইটভাটা প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান জানান, ধানিজমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার আগুন ও ধোঁয়া দেশের সবুজায়ন নষ্ট করছে। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ইটভাটা ভেঙে দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন, তবে ইটের বিকল্প প্রযুক্তি ও উপকরণ প্রচার না করলে শুধু আইন প্রয়োগে সমস্যার সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, ইটভাটা ভাঙা কোন স্থায়ী সমাধান নয়; ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করাই টেকসই পথ। এজন্য তিনি রাজউককে ভবন নির্মাণে নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্লক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানান এবং বলেন, সরকারই ইটের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। সুতরাং বিকল্প উপকরণকে প্রচার ও ব্যবহারে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানের সভাপতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সরকারি অবকাঠামো শুধু নির্মাণ নয় টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব। পরিবেশবান্ধব নকশা ব্যয় কার্যকারিতা এবং দক্ষ প্রকিউরমেন্ট সামনে রেখে আমরা কাজ করব।এটাই আজকের অঙ্গীকার হতে হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন ইঞ্জিনিয়ার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ (অব.), ইঞ্জিনিয়ার আশেক আহমেদ শিবলী এবং ইঞ্জিনিয়ার শাহ ইয়ামিন–উল–ইসলাম। অনুষ্ঠানে গণপূর্ত অধিদপ্তরের দেশের সব ইঞ্জিনিয়ার ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারি ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ‘কনস্ট্রাকশন সাইট এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান, ধানমন্ডি লেক ওয়াটার কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট, পিপিআর-২০২৫, গ্রীন প্রকিউরমেন্ট এবং গ্রীন বিল্ডিং’ বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা প্রদান করা হয়।