• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

দিপু উত্তাপ নয়াদিল্লিতে-বিক্ষোভ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে


প্রকাশিত: ১০:০১ পিএম, ২৩ ডিসেম্বর ২৫ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২৬ বার

লাবণ্য চৌধুরী : বাংলাদেশের ‘দিপু উত্তাপ’ এবার নয়াদিল্লিতে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরে ভারতে চলমান বিক্ষোভ এবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে ঘটছে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো এ বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে আজ মঙ্গলবার আবারও বিক্ষোভ করেছে হিন্দুত্ববাদীরা। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ চলছে।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিশেষ করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পর হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে।

বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। তা সত্ত্বেও, বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ব্যারিকেড ভেঙে কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর বিক্ষোভকারীরা কমপক্ষে দুটি স্তরের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি ও দ্য হিন্দু। বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে ব্যানার এবং প্ল্যাকার্ড ধরে দূতাবাসের সামনে স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।

তবে বিক্ষোভের খবরে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আগে থেকেই সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভবনের বাইরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এলাকাটি তিন স্তরের ব্যারিকেডিং দিয়ে সুরক্ষিত করা হয়েছে। এছাড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সকাল ১০টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করা হয়। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বজরং দল এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।বিক্ষোভ সামনে রেখে মঙ্গলবার সকাল থেকেই নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।পুরো এলাকা তিন স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচুর পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবারের (২৩ ডিসেম্বর) বিশাল এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্যের ‘শক্তিশালী ফোর্স’ মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে রাখতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কয়েক দিন ধরে ভারতে বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার পর হিন্দুত্ববাদীরা বিক্ষোভ শুরু করে।

তবে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ভালুকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার পোশাক কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে (২৭) চাকরি ছাড়তে বাধ্য করার পর উত্তেজিত জনতার কাছে তুলে দেন কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ। পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পিটিয়ে হত্যার পর তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ। এর মধ্যে র‍্যাব সাতজনকে এবং পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।ভিএইচপিসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বলা হয়, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে।