• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকা চট্টগ্রামে স্বাধীনতা বিরোধী মুখোশ উম্মোচন-যা ঘটলো-


প্রকাশিত: ১০:৪৮ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২৫ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৫৮ বার

এখানে কোনো পতাকা আঁকা যাবে না,’ এ কথা বলে ঘৃণা প্রকাশের জন্য পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে বাধা দেওয়া হয়েছে- যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছবি কালো কালিতে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জ-বি প্রতিনিধি : বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয়ে য়ারা খুশী ছিলেন না তারা আবার মাথাচাঁড়া দিয়ে উঠেছে। ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়ে গেছে, এখানে কোনো পতাকা আঁকা যাবে না,’ এ কথা বলে ঘৃণা প্রকাশের জন্য পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ওদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তায় রাজাকার হিসেবে আঁকা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছবি কালো কালিতে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

জ-বি শিক্ষার্থীরা বলছেন, আবাসিক হলের একদল শিক্ষার্থী তাঁদের পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে বাধা দিয়েছেন এবং হামলা চালিয়েছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রক্টরও ছিলেন। হামলার শিকার হয়েছেন সেখানে থাকা দুজন সাংবাদিক।বিজয় দিবসের আগে গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ ইবনে বাসিত বলেন, তাঁরা বিজয় দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের ভেতরের রাস্তায় পাকিস্তানের পতাকা আঁকছিলেন, যাতে পতাকা মাড়িয়ে ঘৃণা জানানো যায়। তখন হঠাৎ কয়েকজন সহকারী প্রক্টর এসে তাঁদের বাধা দেন। পতাকা আঁকার জন্য কেন অনুমতি নেওয়া হয়নি, তা জানতে চান। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রক্টরদের বাগ্‌বিতণ্ডা চলে। পরে প্রক্টররা সেখান থেকে চলে যান।ফরহাদ আরও বলেন, ‘কিছুক্ষণ পর আমরা আবার পতাকা আঁকা শুরু করলে একদল শিক্ষার্থী অতর্কিতভাবে আমাদের দিকে তেড়ে আসেন এবং প্রক্টরের সামনে হামলা চালান। তাঁরা আমাদের ওপর হামলার সময় বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা হয়ে গেছে, এখানে কোনো পতাকা আঁকা যাবে না।’

এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ক্যাম্পাসের কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া ও জনকন্ঠের প্রতিনিধির ওপর হামলা হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।কালের কণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মিনহাজুল ইসলাম বলেন, তিনি লাইভ সংবাদ সংগ্রহের সময় একটি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বাধা দেন এবং একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর ওপর চড়াও হন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সামনে তাঁকে আঘাত করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও দৈনিক জনকণ্ঠের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা ওমর ফারুক জিলন বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ঘূণা জানাতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আলী স্যার বাধা দেন। পতাকা আঁকা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি দেন। এরপর আবার আঁকতে গেলে প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক স্যার বাধা দেন। এ সময় হলের কিছু শিক্ষার্থী হলে যাওয়ার জন্য বাস নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে চাইলে আমরা পতাকা আঁকা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলি। কিন্তু তাঁরা সেটা না মেনে হইহুল্লোড় শুরু করেন। এরপর তাঁরা ভাস্কর্য চত্বর থেকে দৌড়ে গিয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। দুই পক্ষকে সমঝোতায় আনার চেষ্টা করলেও অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে রাতে বিক্ষোভ মিছিল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। বিক্ষোভ মিছিলে তাঁরা ‘শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কেন বিচার চাই’, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা কেন বিচার চাই’, ‘পাকিস্তানের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘দিল্লি নয় পিন্ডি নয় সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন।বিক্ষোভ মিছিলের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরের রাস্তায় এবং প্রশাসনিক ভবনের নিচে পাকিস্তানের পতাকা আঁকেন।

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের গাড়ি আটকে রাখা হয়। সকাল পর্যন্ত প্রশাসন ভবনে উপাচার্য ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের গণহত্যার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ঘৃণাসূচক পাকিস্তানের পতাকা আঁকার সময় প্রশাসন বাধা দেয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ করেছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে ও বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

ওদিকে-
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাস্তায় রাজাকার হিসেবে আঁকা যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের ছবি কালো কালিতে ঢেকে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মন্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল সোমবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই ছবি আঁকা হয়। পরে আজ মঙ্গলবার সকালে তা কালো কালি দিয়ে ঢাকা দেখতে পান শিক্ষার্থীরা। রাতের আঁধারে একদল দুর্বৃত্ত এ কাজ করেছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

অবশ্য শুধু গোলাম আযম নন, শিক্ষার্থীরা গোলাম আযমের পাশে সহ–উপাচার্য মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের ব্যঙ্গাত্মক ছবিও এঁকেছিলেন। এটিও কালো কালিতে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ভবনের সামনে গতকাল রাতে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা প্রহরী আবুল হাশেম বলেন, ‘আমি ভোর চারটা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছিলাম। এরপর ঘুমাতে যাই। সকাল ছয়টায় এসে দেখি, এগুলোতে কালি দেওয়া হয়েছে। কে ছবিগুলোতে কালি দিয়েছে, আমি দেখিনি।’

এর আগে গত রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সহ–উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘যে সময় আমি (পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী) দেশ থেকে পালানোর জন্য চেষ্টা করছি, আমি জীবিত থাকব না মৃত থাকব, সে বিষয়ে কোনো ফয়সালা হয়নি; সে সময় পাকিস্তানি যোদ্ধারা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে, এটি আমি মনে করি রীতিমতো অবান্তর।’ এ ছাড়া তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পরই সমালোচনা হতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলসহ ছয়টি সংগঠন তাঁর পদত্যাগের দাবি করে। এ দাবিতে তারা গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে রাখে। ফলে রাত প্রায় পৌনে ৯টা পর্যন্ত ভবনটিতে আটকা ছিলেন সহ–উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, সহ–উপাচার্য (প্রশাসনিক) মো. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এ সময়ই প্রশাসনিক ভবনের সামনে ছবি দুটি আঁকা হয়।

জানতে চাইলে আন্দোলনে থাকা চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুবুর রহমান বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে না, যারা গোলাম আযমের আদর্শকে ধারণ করে, তারা হয়তো কালি দিয়েছে। কারও কোনো ছবি বা প্রতিকৃতি পছন্দ না হয়, সে এ ছবির বিপরীতে আরেকটি আঁকতে পারে। তবে এভাবে মুছে দেওয়া বলপ্রয়োগের মধ্যে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা উচিত।’

ছবিগুলোয় কারা কালি দিয়েছে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মো. নুরুল হামিদের সঙ্গে সরাসরি কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। আমাদের প্রক্টর স্যার বিস্তারিত বলতে পারবেন।’ পরে প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি রিসিভ করেননি।