ড্রেসে অসন্তুষ্ট ৯৬% পুলিশ-বলছে গার্ডের পোশাক!
অনেকে বলেছেন সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে অনেকে পুলিশকে মানতে চাননা। এটা পুলিশের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে
লাবণ্য চৌধুরী : পুলিশের পোশাক অনেকটা বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের মত লাগে। এতে হতাশ পুলিশ সদস্যরা। অনেকে বলেছেন সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে অনেকে পুলিশকে মানতে চাননা। এটা পুলিশের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলে অভিমত মিলেছে।
সম্প্রতি প্রায় দুই লাখ পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে এক জরিপে দেখা গেছে, নতুন পোশাক নিয়ে ৯৬ শতাংশ সদস্য অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, পোশাকটি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কাপড়ের মান আরও ভালো হলে গরমের সময় কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। অথচ শতকোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নতুন পোশাক চালুর পর এখন আবার আগের পোশাকে ফিরতে চাইছে পুলিশ।
পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যের অভিযোগ, নতুন পোশাক দেশের আবহাওয়ার উপযোগী নয়। পাশাপাশি কাপড়ের মান নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশ। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশাসনের নির্দেশে আন্দোলন দমনে বাহিনীর অনেক সদস্যই নির্মমভাবে চড়াও হয় ছাত্র-জনতার ওপর।
এরপর পুলিশের কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে জনমত জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশের পোশাকে পরিবর্তন আনে। শুরুতে এ উদ্যোগ নিয়ে তেমন প্রতিক্রিয়া না এলেও বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই আপত্তি উঠতে থাকে। বলা হয়, সংশ্লিষ্টদের মতামত না নিয়েই পোশাক পরিবর্তন করা হয়েছে, যা পুলিশের ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, মাঠপর্যায়ে নতুন পোশাকটি উপযোগী নয়—এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তার দাবি, এই পোশাক অনেকটা বেসরকারি সিকিউরিটি গার্ডের পোশাকের সঙ্গে মিল রয়েছে, যা পুলিশের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ওদিকে সাধারণ মানুষের একটি অংশ মনে করেন, পোশাকের রং বদলের চেয়ে পুলিশের মানসিকতার পরিবর্তন বেশি জরুরি। তাদের মতে, পোশাক পরিবর্তন সাময়িক একটি উদ্যোগ মাত্র। ৫ আগস্টের আগে পুলিশ যেমন ছিল, এখনও তেমনই রয়েছে—গুণগত কোনো পরিবর্তন চোখে পড়েনি।পোশাক পরিবর্তনে সরকারের ব্যয় হয়েছে শতকোটি টাকার বেশি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তৌহিদুল হক মনে করেন, পোশাক পরিবর্তনের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় না করে পুলিশের লজিস্টিক সহায়তা বাড়ানো যেতে পারত।
তিনি বলেন, আবার পুরোনো ইউনিফর্মে ফিরে গেলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এত বড় ব্যয় বহনের মতো সক্ষমতা রাষ্ট্রের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের কথাও উঠেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। র্যাব সদস্যরা এখনও আগের কালো পোশাকেই দায়িত্ব পালন করছেন।




