• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

ডেঙ্গু বেড়েই চলেছে ১দিনে আক্রান্ত ২৪৮ জন


প্রকাশিত: ৮:২১ পিএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২৫ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৪১ বার

 

 

মেডিকেল রিপোর্টার : বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন ২ হাজার ১৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে ১৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫২৭ জনে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের নিয়ে চলতি বছরের মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৭০৯ জনে। তবে এ সময় ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা অপরিবর্তিত থেকে ১৬৭ জনেই রয়েছে।

ডিজিএইচএস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৫২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫৬ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৩ জন রয়েছেন।

ডেঙ্গু মশা নিধনে ১২ দফা-
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকায় মশাবাহিত এ রোগের চিকিৎসায় ১২ দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
দেশের সব মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক, জেলার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠানো হয়। চিঠিটি পাঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।

নির্দেশনাগুলো হলো—
১. ডেঙ্গু রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে এনএস ওয়ান পরীক্ষা করতে হবে। এনএসওয়ান/অ্যান্টিজেন কিটের জন্য সিএমএসডি অথবা সিডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
২. ভর্তি রোগীদের জন্য হাসপাতালে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৩. হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতালের নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা কক্ষে রাখতে হবে।
৫. ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য মেডিসিন, শিশু ও প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বোর্ড গঠন করতে হবে। বোর্ডের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল অফিসার, রেসিডেন্ট ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের একটি দল গঠন করতে হবে, যারা কেবল এই রোগীদের চিকিৎসা করবেন।
৬. বহির্বিভাগে আসা রোগীদের মধ্যে যারা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হবে, তাদের একটি নিদিষ্ট কক্ষে বিশেষজ্ঞ বোর্ড ও চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেবেন।
৭. আইসিইউর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে সুবিধা থাকলে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৮. রোগীর তথ্য সংরক্ষণ ও প্রেরণের জন্য একজন নার্সকে দায়িত্ব দিতে হবে।
৯. কোনো ডেঙ্গু রোগী মারা গেলে সংক্ষিপ্ত তথ্য ৬ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল পরিচালক/তত্ত্বাবধায়ক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালককে (হাসপাতাল ও সিডিসি) জানাতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
১০. হাসপাতাল এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর জন্য সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দেবেন হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক।
১১. প্রতি শনিবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক, তত্ত্বাবধায়ক বা সিভিল সার্জনের সভাপতিত্বে ডেঙ্গু সমন্বয় সভা করতে হবে।
১২. অন্যান্য জেলা হাসপাতাল প্রয়োজনে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।