ট্রাম্পের শুল্ক কূটনীতিতে ছাড়ের আশায় বাংলাদেশ:সন্ধ্যায় যমুনায় বৈঠক
আসন্ন শুল্ক আরোপের সময়সীমার আগেই পৃথক চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত আছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনা সফল হলে তা দেশগুলোর জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপ এড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ করে দিতে পারে।
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক রিপোর্টার : অবশেষে আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক কূটনীতিতে ছাড়ের আশায় নামছে বাংলাদেশ। শনিবার সন্ধ্যায় বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন প্রধান উপদেষ্টা। আলোচনায় ইতিবাচক পন্থা বের করার চেষ্টা করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ঠরা। তবে ইতিমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেছে ভারত ও ভিয়েতনাম। শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। এতে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির স্থানীয় সময় আগামী ৯ এপ্রিল রাত থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই বিষয়টি সমাধান করতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেছে বলে সিএনএন খবর দিয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, তৈরি পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ও ভারত ট্রাম্পের সঙ্গে দেনদরবারের কাজ শুরু করেছে দিয়েছে।
বলা হয়েছে, ৯ এপ্রিলের আগেই নতুন শুল্ক আরোপ এড়াতে ভিয়েতনাম, ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা করছে। এই আলোচনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
এ নিয়ে এরইমধ্যে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেছেন, ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো লাম প্রস্তাব দিয়েছেন- উভয় পক্ষ যদি পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সিনিয়র একজন উপদেষ্টার বরাত দিয়ে সিএনএন বলছে, ভিয়েতনাম, ভারত ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো দ্রুত বাণিজ্য আলোচনা করতে চাচ্ছে। আসন্ন শুল্ক আরোপের সময়সীমার আগেই পৃথক চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রচেষ্টায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত আছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আলোচনা সফল হলে তা দেশগুলোর জন্য ট্রাম্প প্রস্তাবিত শুল্ক আরোপ এড়ানোর একটি সম্ভাব্য পথ করে দিতে পারে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কোন দেশের ওপর কত হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ হবে, সংবাদ সম্মেলনে তার একটি তালিকা তুলে ধরেন তিনি। এই তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর ৩৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৬ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা উল্লেখ আছে।
এ ছাড়া কম্বোডিয়ায় ৪৯ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৪ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৩৬ শতাংশ, তাইওয়ানে ৩২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৩২ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডে ৩১ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩০ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ শতাংশ, জাপানে ২৪ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ২৪ শতাংশ, ইসরায়েলে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনে ১৭ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ১০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্ক, ব্রাজিল, চিলি, অস্ট্রেলিয়া এবং কম্বোডিয়ায় ১০ শতাংশ করে শুল্ক আরোপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের যুক্তি, নতুন এই ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ বা পাল্টা শুল্ক ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে আবার সম্পদশালী করবে।