• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

টিম তারেকের আমলনামা


প্রকাশিত: ৫:০৮ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৩ বার

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রা ভালভাবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ। বাবা-মায়ের পর সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসা বিএনপি চেয়ারম্যান অর্ধশত জনের মন্ত্রীসভা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

শফিক রহমান : এলেন দেখলেন জয় করলেন নতুন বাংলাদেশ। দল নেতা টিম তারেক ইতিমধ্যে চমক দেখানো শুরু করে দিয়েছেন। প্রথম চমর দেখান সবার আগে বাংলাদেশ শ্লোগানে। তারেকের মন্ত্রিসভায় মঙ্গলবার সবচেয়ে বড় চমক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যাত্রা ভালভাবে গ্রহণ করে বাংলাদেশ। বাবা-মায়ের পর সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসা বিএনপি চেয়ারম্যান অর্ধশত জনের মন্ত্রীসভা করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

যদিও অতীতে জাতীয় সরকারের ধারণা বিএনপি চেয়ারম্যান দিলেও মন্ত্রিসভায় এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। ভোটের আগেই সেখান থেকে সরে আসার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জোটবদ্ধভাবে ভোটের মাঠে থাকা তিন শরিক দলের নেতাকে যুক্ত করেছেন সরকার পরিচালনার কাজে।

লন্ডনে ১৭ বছর নির্বাসনে কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মধ্যে নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দেশের নেতৃত্বে টিম তারেকের সঙ্গে আর কারা আছেন কি তাদের আমলনাম তা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

তারেক রহমানকে সামনে রেখে ২৫ জন মন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশের নতুন সরকার। সরকারে জায়গা করে নেওয়া এই ৪৯ আইনপ্রণেতার মধ্যে ৪০ জনেরই এর আগে মন্ত্রণালয়ে বসার অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তিন দশক পরে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে নতুন মুখ হিসেবে যিনি বসলেন, সেই তারেক রহমানও এর আগে সংসদের স্বাদ পাননি। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে প্রথমবারের মতো মন্ত্রণালয় সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন ১৬ জন। অন্যদিকে ২৪ প্রতিমন্ত্রীর সবাই নতুন।

তারেক রহমান

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের জন্ম বগুড়ার গাবতলীতে, ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর। দলটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ নিয়ে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে পা রাখেন তিনি।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারেও অংশগ্রহণ করেন।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং সুশাসনের ওপর গবেষণা করার জন্য ঢাকায় একটি অফিস প্রতিষ্ঠা করেন তারেক রহমান। ওই বছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট তৃতীয়বার সরকার গঠন করে।২০০২ সালে তারেককে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে দলের স্থায়ী কমিটি।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ঢাকা সেনানিবাসের শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী। যৌথ বাহিনীর হেফাজতে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।

প্রায় আঠারো মাস পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের জামিনে মুক্তি পান তারেক। সেই রাতেই স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ‘উন্নত চিকিৎসার জন্য’ লন্ডনে চলে যান তিনি; শুরু হয় নির্বাসিত জীবন।এর মধ্যেই ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তারেক রহমান সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এদিকে দেশে শুরু হয় বিএনপির দুঃসময়। ২০১০ সালে শহীদ মইনুল সড়কের বাসা থেকে উৎখাত হন তার মা খালেদা জিয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের পর বিএনপি সংসদের বাইরে চলে যায়, রাজপথই হয় দলটির ঠিকানা।২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়, সেই বৈরী সময়েও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে যেদিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর সাত বছর ধরে লন্ডন থেকে ভিডিও কলেই দল চালিয়ে গেছেন তারেক।
ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।আওয়ামী লীগের আমলে দেওয়া বিভিন্ন রায়ে তারেক রহমানেরও সাজা হয়েছিল। সেসব মামলায় তিনি খালাস পান। তাতে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।

অবশেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে কয়েক লাখ কর্মী সমর্থকের উপস্থিতিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন তারেক রহমান। বাসের ভেতর থেকে সড়কজুড়ে ভিড় করা জনতার উদ্দেশে তারেকের হাত নাড়ার দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও জায়গা করে নেয়।

এরপর ৩০ ডিসেম্বর তারেকের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে দাফন করা হয়।বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার বড় ছেলের দলের শীর্ষ পদে আসা অবধারিতই ছিল। গত ৯ জানুয়ারি বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফখরুল ছাত্র জীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি।ঢাকা কলেজসহ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি ছেড়ে আশির দশকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হন ফখরুল।

২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চার দলীয় জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল।বিএনপি মহাসচিব হওয়ার আগে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন ফখরুল। এই পদটি সৃষ্টি করা হয়েছিল তারেক রহমানের জন্য। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর ওই পদে মির্জা ফখরুলকে আনেন তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এরপর ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হয়ে একদশক ধরে সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি শপথ না নেওয়ায় ওই আসনে উপনির্বাচনে জয় পেয়ে সংসদে যান বিএনপির জিএম সিরাজ সংসদে যান।রাজনীতিকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এমপি নির্বাচিত হয়ে সংসদে যোগদান থেকে বিরত থেকেছেন।দুই মেয়ে নিয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলে সিনিয়র সাযেন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ধানমন্ডির সানি ডেল স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।একই আসন থেকে তিনি ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনের দুই নির্বাচন এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরে যান তিনি।২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর আমীর খসরুকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০০৪ পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।

আমীর খসরুর বাবা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী পাকিস্তান আমলে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।পেশায় ব্যবসায়ী খসরু চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি। এক সময় তিনি সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও ছিলেন ।

সালাহউদ্দিন আহমদ

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এক সময় ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। বগুড়া জেলা প্রশাসনে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে দায়িত্বপালনকালে ১৯৯১ সালে তাকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) করা হয়।

১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে সালাহউদ্দিন রাজনীতিতে নামেন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুনের দুই নির্বাচন এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির টিকেটে নির্বাচন করে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে এমপি হন তিনি।২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে সালাহউদ্দিন আহমেদকে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে হয় সালাহউদ্দিনকে। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেন তারি স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।২০১৫ সালে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ঢাকার উত্তরার একটি বাড়ি থেকে ‘তুলে নিয়ে যাওয়া হয়’ সালাহউদ্দিনকে। দীর্ঘ ৬২ দিন নিখোঁজ থাকার পর ওই বছরের ১১ মে তাকে ভারতের শিলংয়ে পাওয়া যায়।

আইনি জটিলতা ও মামলা মোকাবিলার কারণে তিনি প্রায় নয় বছর সেখানে অবস্থান করেন। দেশে ফেরার পথ সুগম হয় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর। ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন।শিলংয়ে থাকা অবস্থায় সালাহউদ্দিনকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করে নেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর তিনি বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় আবির্ভূত হন।অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে সালাহউদ্দিন আহমেদই বিএনপির প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে একই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়ে পান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান টুকু।রাজনৈতিক পরিবারে সন্তান টুকুর বাবা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পাকিস্তান সরকারের শিল্প ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। প্রয়াত সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী এম এ মতিন সম্পর্কে টুকুর ভগ্নিপতি।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গ্রেপ্তার হন। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯-১৪ মেয়াদে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘদিন নির্বাসিত জীবন কাটানো টুকুর লেখা ‘আমার জীবন’ ও ‘আব্বু ওরা এসে গেছে’ শিরোনামে দুটি বই রয়েছে।পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন করা টুকু স্বাধীনতার পর রপ্তানি ব্যবসায় জড়ান। ২০০৮ সালে জেলে থাকার সময় তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এমপি নির্বাচিত হন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সাতবারের এমপি হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে যশোর সেনানিবাসে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত থাকাকালে নিজের ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন এবং যশোর সেনানিবাস মুক্ত করতে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন।পরবর্তীতে তিনি মেজর জিয়ার নেতৃত্বাধীন ‘জেড ফোর্স’-এর অধীনে ব্রাভো কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে কামালপুর ও ধলাই বিওপি আক্রমণে বীরত্বের পরিচয় দেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন।

ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তার বাবা চিকিৎসক আজহার উদ্দিন আহমেদ তৎকালীন আইনসভার সদস্য (এমএলএ) ছিলেন।হাফিজ উদ্দিন এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন।

এজেডএম জাহিদ হোসেন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

খলিলুর রহমান

সাবেক কূটনীতিক খলিলুর রহমানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের’ দায়িত্ব দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।জাতিসংঘে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক এ কর্মকর্তা ২০০১ সালে তৃতীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতির ডিগ্রিধারী খলিলুর ১৯৭৮-৭৯ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেস ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকে নির্বাহী পদে চাকরিরত ছিলেন। প্রথম বিসিএসের মাধ্যমে ১৯৭৯ সালে তিনি পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন।১৯৮০-৮৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ও আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি করেন।পেশাদার কূটনীতিক খলিলুর ১৯৯১ সালে জেনিভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরের ২৫ বছর জেনিভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি।

আবদুল আওয়াল মিন্টু

আবদুল আউয়াল মিন্টু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন।৭৭ বছর বয়সে এসে এই প্রথম সংসদ ভবনে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি।রাজনৈতিক সাফল্যের জন্য কয়েক দশক অপেক্ষায় থাকতে হলেও ব্যবসায় প্রভাবশালী হতে খুব একটা সময় নেননি মিন্টু।

দেশে প্রথম কোনো ব্যবসায়ী নেতা হিসেবে দুই মেয়াদে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।দাগনভূঞা উপজেলায় জন্ম করা এ ব্যবসায়ী নেতার কর্মজীবন শুরু হয় মার্চেন্ট নেভি অফিসার হিসেবে। কিন্তু ১৯৭১ সালে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান তিনি। সেখানে গিয়ে নতুন করে লেখাপড়া শুরু করেন; স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন পরিবহন ব্যবস্থাপনায়।

আশির দশকের শুরুতে দেশে ফিরে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে আবির্ভূত হন। জেনারেল এরশাদ ও মওদুদ আহমদের মতো তৎকালীন মন্ত্রীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। আর ওই সময়ই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘মাল্টিমোড’।ব্যবসার ক্ষেত্রে কৃষি খাত বর্তমানে তার প্রধান আগ্রহের জায়গা। তার প্রতিষ্ঠিত ‘লাল তীর’ একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।

তিনি ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন (বাঁ থেকে) আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, জাকারিয়া তাহের ও আসাদুল হাবিব দুলু।নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন (বাঁ থেকে) আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, জাকারিয়া তাহের ও আসাদুল হাবিব দুলু।নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘উইমেন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠিত হয় তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়ালের হাত ধরে।

তিনি দীর্ঘ সময় ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হওয়ার চেষ্টা করেছেন। এজন্য দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের কাছে মনোনয়নও চেয়েছিলেন তিনি। তাতে সাড়া না পেয়ে শেষমেশ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের তার ছেলে তাবিথ আওয়ালকে প্রার্থী করেন।অনেকের বিশ্বাস, ২০২০ সালের সেই নির্বাচনে তাবিথ আওয়ালই জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু আনিসুল হকের পক্ষে কারচুপি করে তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়।

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ

কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।২০০২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি পুনরায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন।

মিজানুর রহমান মিনু

রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু।বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তিনি। তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে তিনবার দায়িত্ব পালন করেন।মিনুর জন্ম ১৯৬৮ সালের ৭ জানুয়ারি। তিনি রাজশাহী জেলা বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।জেলা যুবদলের সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রদলের জেলা (উত্তর) সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন একসময়।রাজশাহীর এ রাজনীতিক প্রথমবার মেয়র হন ৩২ বছর বয়সে। টানা ১৭ বছর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন তিনি।

নিতাই রায় চৌধুরী

নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৮ সালে মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে।এরপর তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া এই রাজনীতিকের জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর; সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের আহমদপুর গ্রামে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের একজন। তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি।

তার কনিষ্ঠ ছেলে মুক্তাদির ২০১৬ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।রাজনীতিকের পাশাপাশি তিন একজন বড় ব্যবসায়ীও। বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে একসময় সভাপতি ছিলেন।পরিচালক ছিলেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের।

আরিফুল হক চৌধুরী

সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনার থেকে সিলেটের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।নতুন সরকারে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা আরিফুল বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পদে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্যও।

এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার আগে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতি করতেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

আরিফুল হক ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন।২০১৮ সালে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। একমাত্র সিলেটে বিএনপি থেকে আরিফুল হক মেয়র নির্বাচিত হন। তবে ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তিনি প্রার্থী হননি।

জহির উদ্দিন স্বপন

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।তিনি বিএনপির মিডিয়া সেলের সাবেক আহ্বায়ক। তিনি বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশনের (বিএনআরসি) পরিচালক।ছাত্রজীবনে একসময় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজনীতি করেছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের মনোনয়ন পাননি আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। পরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন নির্বাচন থেকে।

ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা দক্ষিণের সমন্বয়কের দায়িত্ব নিয়ে ছয়টি আসনে দলের কোন্দল নিরসন এবং নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় হন বিএনপি চেয়ারম্যানের এ উপদেষ্টা।কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্য দলের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন দীর্ঘদিন।দলের প্রতি এসব অবদানের স্বীকৃতি মিলেছে অবশেষে, তিনি জায়গা পেয়েছেন তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায়। টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

আফরোজা খানম রিতা

প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের আফরোজা খানম (রিতা)। স্বাধীনতার পর এই আসনে তিনিই একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক।তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। তার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য; মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি

যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার আগে বিএনপির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন এ্যানি।লক্ষ্মীপুরের এই রাজনীতিক তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন এ্যানি। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয় পান।মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়া এ্যানি এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

আসাদুল হাবিব দুলু

আসাদুল হাবিব দুলু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী এবং লালমনিরহাট সদরের প্রাক্তন সংসদ সদস্য।তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী ছিলেন।২০০৭ সালের অক্টোবরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতির অভিযোগে যে ৩৫ সন্দেহভাজনের তালিকা প্রকাশ করে, তাতে দুলুর নামও ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের অক্টোবরে প্রমাণের অভাবে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান তিনি।

মো. আসাদুজ্জামান

আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের সপ্তদশ অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে ছিলেন। সেই দায়িত্ব ছেড়ে তিনি বিএনপির মনোনয়নে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন এবং ঝিনাইদহ ১ আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন আসাদুজ্জামান। তার জন্ম ১৯৭১ সালে; ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপায়।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়ার সময় জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন আসাদুজ্জামান। ১৯৯৩ সালে জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হন। আইনপেশায় যোগ দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবনের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেন আসাদুজ্জামান। পরে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগ দেন। এক পর্যায়ে সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ল চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন আসাদুজ্জামান।

জাকারিয়া তাহের

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক। তিনি কুমিল্লা বিএনপির প্রয়াত নেতা এ কে এম আবু তাহেরের ছেলে।এ কে এম আবু তাহের ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে কুমিল্লার বরুড়া আসনের এমপি হন। ২০০৪ সালে তার মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে জিতে প্রথমবার এমপি হন তার ছেলে সুমন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে লেখাপড়া করে আসা সুমন ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছিলেন, তবে জিততে পারেননি। এবার তিনি কুমিল্লা-৮ আসনে নির্বাচন করে ১ লাখ ২৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন।

দীপেন দেওয়ান

রাঙামাটি জেলা নিয়ে একটি আসন। এই আসনে এমপি হয়েছেন বিএনপির দীপেন দেওয়ান। নতুন মন্ত্রিসভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান পান দীপেন দেওয়ান। তার জন্ম ১৯৬৩ সালের ৮ জুন। দীপেন দেওয়ানের লেখাপড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এহসানুল হক মিলন

চাঁদপুর-১ আসন (কচুয়া) থেকে ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পান মিলন। অষ্টম সংসদ নির্বাচনেও তিনি জয়লাভ করেন। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সংসদে পা রাখতে যাচ্ছেন তিনি।মিলন ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় তিনি পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করার অভিযান চালিয়ে বেশ প্রশংসা কুড়ান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করা মিলন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বও সামলে আসছেন।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল

এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদে পা রাখতে যাচ্ছেন নরসিংদীর এ রাজনীতিক।এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পান তিনি।বর্তমানে তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়ে জয় পান তিনি।

ফকির মাহবুব আনাম

ফকির মাহবুব আনাম ১৯৫৩ সালের ৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থানার মহিষমারা ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি। ঢাকায় বসবাস করেন বারিধারা কূটনৈতিক এলাকায়।টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর) আসনে বিএনপি থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

শেখ রবিউল আলম

শেখ রবিউল আলম ১৯৭০ সালের ৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা-১০ থেকে নির্বাচিত এই নেতা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।তিনি আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রবিউল আলম টেলিভিশন টকশোর পরিচিত মুখ।