জোটে অনৈক্য-জামায়াত একাই ২’শ সিট নেয়ায় মহা-ঝামেলা
ডা. শফিকুর রহমান সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, ‘জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে সকলকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কারও ব্যাপারেই কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে
বিশেষ প্রতিনিধি : জামায়াত একাই ২০০ আসন নিতে চাওয়ায় জোটে মহাঝামেলা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আজকের বুধবারের সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের এই অনৈক্য দেখা দিয়েছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই। জোটের শরিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি জামায়াতের আচরণকে দায়ী করেছে।বুধবার দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন এর কাছে দাবি করেন, জামায়াতের একপাক্ষিক আচরণ ১১ দলীয় জোটের আসন সমঝোতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর আগে, দুপুরে জামায়াতে ইসলামীর এক বিবৃতিতে জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করার কথা জানানো হয়।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। যেখানে ৩০০ আসনের বণ্টন এবং শরিক দলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা ছিল।ইফতেখার তারিক অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াত একাই ২০০ আসনে নির্বাচন করতে চায়, যা জোটের স্বার্থপরিপন্থী। এছাড়া অন্য দলগুলোকে না জানিয়েই সংবাদ সম্মেলন ডেকে আবার তা স্থগিত করা হয়েছে, যা কাম্য নয়।’
সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ-
এদিকে, সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের পর ফেসবুকে এক পোস্টে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘জাতীয় জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে সকলকে সর্বোচ্চ প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কারও ব্যাপারেই কোনো ধরনের বিরূপ আচরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।’আমির’র আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন। আশা করি, আমরা সবাই সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবো, ইনশাআল্লাহ।
ভোট বিভাজন রোধে এবার জামায়াতসহ ইসলামি দলগুলো একটি নির্বাচনী জোট গঠন করেছে। পরবর্তীতে এই জোটে যোগ দিয়েছে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি। তবে আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি এবং প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।




