• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

জামায়াত নেতার টাকার ভেলকি! সৈয়দপুরে ভোটের আগে জব্দ অর্ধকোটি টাকার বেশী


প্রকাশিত: ৪:৩১ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২৬ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৭১ বার

সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় একজন যাত্রীর কাছে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয়।

ইসলাম মিয়া/ শফিউল আলম বাবলু : ভোটের আগের দিন বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমীর বেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে মিলেছে অর্ধকোটি টাকারও বেশি টাকা। এই টাকার উৎস নিয়ে তোলপাড় চলছে। খুঁজছে পুলিশ প্রকৃত ঘটনা। কিন্তু জামায়াত নেতা দুপুর পর্যন্ত টাকার উৎস দেখাতে পারেননি। তবে জামায়াত নেতা দাবি করে বলেছেন এই টাকা গার্মেন্টস ব্যবসার টাকা। এটি কি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং নাকি ভোটার তুষ্ঠি নাকি অন্য কিছু কারণে এই টাকা ঠাকুরগাঁওয়ে নেয়া হচ্ছিল তা নিয়ে রহস্য ঘণিভূত হয়েছে সৈয়দপুর ও ঠাকুরগাঁও এলাকায়।

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় ৫০ লাখ টাকার বেশি টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

আমাদের সৈয়দপুর বিশেষ প্রতিনিধি শফিউল আলম বাবলু জানান, আজ বুধবার সকালে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা চেকপোস্টে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার কাছে ৫০ লাখ টাকারও বেশী টাকা রয়েছে বলে মি. বেলাল জানিয়েছেন পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের। সূত্র জানায়, দুপুরের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উদ্ধার হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখন গণনা করা হচ্ছে।

সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন কে বলেন, ‘বিমানবন্দরে নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় একজন যাত্রীর কাছে অস্বাভাবিক পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা। তবে চূড়ান্ত হিসাব এখনও চলমান রয়েছে। ওসি জানান, মি. বেলাল দাবি করেছেন তিনি শিক্ষকতা করেন এবং গার্মেন্টস ব্যবসায় জড়িত। তার বহনকৃত টাকা ব্যবসার বলে মি. বেলাল দাবি করলেও এর প্রমান দিতে এখনও পারেননি।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বেলাল উদ্দিন সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যত্র যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় নিরাপত্তা তল্লাশির অংশ হিসেবে তার ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হলে নগদ অর্থের বিষয়টি নজরে আসে। এত বড় অংকের টাকা বহনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, আটক জামায়াত নেতা বেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লাখ টাকার কিছু বেশি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘আমি ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে এই টাকা বহন করছিলাম। এর সঙ্গে কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ তিনি আরও দাবি করেন, টাকার উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি পরে দেখাতে পারবেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল দাবি নয়-টাকার প্রকৃত উৎস, বহনের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কোনো আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ওসি নাজমুল আলম বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধতা যাচাই জরুরি। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি।’

পুলিশ সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ অর্থের উৎস যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি অবহিত করা হতে পারে।

ঘটনাটি স্থানীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতার কাছ থেকে এ ধরনের বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। যদিও এখনো তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বিষয়টি, তবে পুলিশ বলছে-কোনো কিছুই অনুমানের ভিত্তিতে নয়, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।