জামায়াত জোট নিয়ে গৃহদাহ এনসিপিতে নাখোশ ৩০ নেতা- তাসনিমের পদত্যাগ
জামায়াত এনসিপি জোট নিয়ে চলছে নানা রহস্য। কিছুটা গৃহদাহ’ও চলছে। ইতিমধ্যে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা-নাখোশ এনসিপির ৩০ নেতা-
শফিক রহমান : জামায়াত জোট নিয়ে গৃহদাহ চলছে এনসিপিতে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলচলে জামায়াত এনসিপি জোট নিয়ে চলছে নানা রহস্য। কিছুটা গৃহদাহ’ও চলছে। ইতিমধ্যে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।অথচ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন সোমবার। ওদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ৮– দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য।
এরই মধ্যে জোটবদ্ধ হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ বাড়লেও রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত বদলাচ্ছে সমীকরণ। ক্ষমতার আশায় নিজের দল ত্যাগ করছেন অনেকে। আবার নতুন নতুন জোট হতে হতেও শেষমেষ ঝুলে যাচ্ছে পরিকল্পনা।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা চলার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা।আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে এনসিপি তাঁকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। তবে শনিবার তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কোনো দলের হয়ে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
যাহোক, নতুন করে আলোচনায় এসেছে জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা আট দলের সম্ভাব্য জোটে এনসিপি, এবি পার্টিসহ আরও কয়েকটি দলের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি। দলগুলোর নেতারা বলছেন, দু-একদিনের মধ্যেই আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট গঠন নিয়ে তৎপরতা বাড়ছে। আসন সমঝোতা, কৌশলগত ঐক্য আর শেষ মুহূর্তের হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েকদিন ধরে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সম্ভাব্য আসন সমঝোতা।শুক্রবার রাতে জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বৈঠক করেন। দলীয় সূত্র বলছে, সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবারের মধ্যেই সমঝোতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, এটি কোনো আদর্শিক জোট নয়; বরং নির্বাচনী বাস্তবতা আর সংস্কার প্রশ্নে একমত হওয়ার কারণেই সমঝোতার আলোচনা চলছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘যে আলোচনা বা গুঞ্জন চলছে, এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে। নির্বাচনে কোনো আদর্শিক জোট গঠন হচ্ছে না। এনসিপি যদি কোনো জোট বা সমঝোতা করে, সেটা হবে একান্তই নির্বাচনী জোট।’এদিকে ‘ঈগল’ প্রতীকে মনোনয়ন সংগ্রহ করলেও এবি পার্টিও জোটে যুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতার বক্তব্যেও উঠে এসেছে বৃহত্তর ঐক্যের কথা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘সময় আমাদের হাতে খুব কম। আমাদের যে গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট, সেটার একটা প্রস্তুতি আমরা নিয়ে ফেলেছি। মোটামুটি আসন সমঝোতা, কীভাবে নির্বাচন পরিচালনা করব, ব্র্যান্ডিং কী হবে—সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এর বাইরের জোটগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত কথা বলতে আরেকটু সময় লাগবে।’
জামায়াত নেতারা বলছেন, এনসিপির সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় এখনই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘কোন দলের সঙ্গে জোট হবে, এগুলো আসলে চূড়ান্ত রূপ নিয়ে দৃশ্যমান হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যায় না। সমঝোতার ভিত্তিতে আসন বণ্টন ও নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে এনসিপি এবং অন্যান্য যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী দল আছে, তাদের জন্য আমাদের দ্বার উন্মুক্ত আছে।’জামায়াতসহ ইসলামপন্থী আট দলের জোটে এনসিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে আসন্ন নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
নাখোশ এনসিপির ৩০ নেতা–
জামায়াতে ইসলামীসহ ৮– দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য।আজ শনিবার গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা। দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন চিঠির বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।চিঠিতে নেতারা তাঁদের আপত্তির ভিত্তি হিসেবে এনসিপির ঘোষিত আদর্শ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–সম্পর্কিত ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার কথা তুলে ধরেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছর ধরে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও স্যাবোটাজ, এনসিপির ওপর বিভিন্ন অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) এবং পরবর্তীতে ছাত্রশক্তি বিষয়ে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার, তাদের অনলাইন ফোর্সের মাধ্যমে এনসিপি ও আমাদের ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সর্বোপরি, ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ইতিহাস, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা, গণহত্যায় সহযোগিতা এবং সে সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ প্রশ্নে তাদের অবস্থান—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আমাদের দলের মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।’




