• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

‘পিআর’ জামায়াতের ‘সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা’ ফাঁস করল নাহিদ


প্রকাশিত: ৯:১৪ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২৫ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৮১ বার

 

জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত পিআর আন্দোলন সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। পিআর আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে লক্ষ্যচ্যুত করা

বিশেষ প্রতিনিধি : জামায়াতের সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিকে ‘সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা’ আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।রোববার এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন।

তিনি বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর তথাকথিত পিআর আন্দোলন সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। পিআর আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে লক্ষ্যচ্যুত করা এবং গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের আলোকে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া থেকে জাতীয় সংলাপকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া।সংস্কার ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ কর্মসূচিতে থাকা অন্য দলগুলোর বিষয়ে কিছু বলেননি নাহিদ।

সংস্কার সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতভিন্নতার কারণে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলোর মধ্যে একটি এনসিপি। পাশাপাশি নিবন্ধন ও প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে দলটি।জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে এনসিপির মত কাছাকাছি অবস্থানে থাকা জামায়াত, এবি পার্টি, গণ-অধিকার পরিষদসহ অন্য দলগুলোও স্বাক্ষর করেছে জুলাই সনদে।

এনসিপির দাবি ছিল, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক আদেশ দিতে হবে। আর তাকে আইনি বৈধতা দিতে হবে গণভোটের মাধ্যমে।জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে থাকা জামায়াতসহ সমমনা আটটি দলও এখন সনদ বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক আদেশ চাইছে।

ফেইসবুকে নাহিদ লিখেছেন, “ভোটের আনুপাতিক হারের ওপর ভিত্তি করে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার মত মৌলিক সংস্কারের দাবিকে একটি সাংবিধানিক সুরক্ষা হিসাবে চিন্তা করা হয়েছিল। এই ধরনের ভিত্তিমূলক সংস্কার এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলাম।

“কিন্তু জামায়াত এবং দলটির রাজনৈতিক সঙ্গীরা এজেন্ডা হাইজ্যাক করেছে। বৃহত্তর এজেন্ডাকে পিআর ইস্যুতে নামিয়ে এনেছে। এই পিআর আন্দোলনকে তাদের ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে হাসিলের অস্ত্র বানিয়েছে। সংস্কার তাদের মূল লক্ষ্য ছিল না, তারা করেছে কারসাজি।”

জামায়াতের সমালোচনা করে নাহিদ লিখেছেন, “জামায়াত কখনও সংস্কার আলোচনায় আগ্রহী ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের আগেও নয়, পরেও নয়। তারা কোনো মৌলিক প্রস্তাব দিল না, সাংবিধানের ভিশন নিয়ে কিছু বলল না এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনো প্রতিশ্রুতি তাদের নেই।ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার আলোচনায় তাদের হঠাৎ সুর মেলানোটা কোনো সরল সমীকরণ ছিল না। এটা ছিল একটা কৌশলগত ছদ্মবেশ এবং সংস্কারের নামে রাজনৈতিক অন্তর্ঘাত।

বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতের ‘এই খেলা এখন বুঝে গেছে’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “তাদের সামনে এখন প্রকৃত সত্য উন্মোচিত এবং তারা আর ভুয়া সংস্কার কিংবা চাতুর্যতায় প্রতারিত হবে না।“মহান সৃষ্টিকর্তা কিংবা এই দেশের স্বাধীনচেতা জনগণ আর অসৎ, সুবিধাভোগী এবং নৈতিকভাবে দেউলিয়া গোষ্ঠীর শাসন মেনে নেবে না।”