• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

জনস্বাস্থ্যে’র সুমন ঘুষ টেন্ডার বাণিজ্য অনিয়মেও বহাল


প্রকাশিত: ৯:৩৪ পিএম, ৮ নভেম্বর ২৫ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৫ বার

 

নির্বাহী প্রকৌশলী ফরোজুল ইসলাম সুমন বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন। “ওহী ট্রেডার্স” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার টেন্ডার বাণিজ্য পরিচালনা করেন তিনি।

 

স্টাফ রিপোর্টার : জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নির্বাহী প্রকৌশলী (সংস্থাপন) ও প্রাক্তন সদস্য–সচিব, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর পদে বাছাই/নির্বাচন ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য মোহাম্মদ ফরোজুল ইসলাম সুমনের বিরুদ্ধে ঘুষ, টেন্ডার বাণিজ্য, পদোন্নতিতে অনিয়ম এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে থেকে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছেন। এ বিষয়ে এক সচেতন নাগরিক ও মানবাধিকার কর্মী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের আগস্টে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে যোগদানের পর থেকে ফরোজুল ইসলাম সুমন ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে একটানা ১৩ বছর ধরে কর্মরত আছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী এত দীর্ঘ সময় একই স্থানে অবস্থান প্রশাসনিকভাবে অনুপযুক্ত হলেও তাঁকে সরানো হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরোজুল ইসলাম সুমন বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছেন। “ওহী ট্রেডার্স” নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার টেন্ডার বাণিজ্য পরিচালনা করেন তিনি। এছাড়াও ঠিকাদারি লাইসেন্স বাণিজ্যের সাথেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র জানায়, ফরোজুল ইসলাম ২০০৮ সালের ২৮তম বিসিএস পরীক্ষায় সাধারণ ক্যাডারে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও টেকনিক্যাল ক্যাডারে পাস করতে পারেননি। ফলে তাঁকে বিসিএস (জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্তির আইনগত ভিত্তি ছিল না।তবুও রাজনৈতিক প্রভাব ও তৎকালীন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং যুগ্ম সচিব খায়রুল ইসলাম-এর সহায়তায় ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি তাঁকে অবৈধভাবে ওই ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।স্থানীয় সরকার বিভাগ পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন বাতিল করলেও ২০২২ সালের ১৫ জুন পুনরায় একই প্রক্রিয়ায় তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আইনবিরোধী বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকে দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ-এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিনিময়ে ফরোজুল ইসলাম সুমনকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়।এই নিয়োগ প্রক্রিয়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন (নং ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৭.২১.৯৭, তারিখ ১৮/০৪/২০২৩) এর ৮(৪) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা আছে— “নবনিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা স্থায়ী না হলে তাঁকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।”

অভিযোগে আরও বলা হয়, ফরোজুল ইসলাম সুমন বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ ও বিভাগীয় পরীক্ষা না দিয়েই সিনিয়র স্কেল পদোন্নতির আবেদন করেন, যা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) প্রত্যাখ্যান করে।তবুও নিয়ম অমান্য করে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড) পদে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে একই শর্ত পূরণকারী প্রায় ১০ জন কর্মকর্তা বছরের পর বছর পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব সম্পর্কে ফরোজুল ইসলাম সুমন এর সঙ্গে দৈনিক সত্যকথা প্রতিদিন মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রতিউত্তর দেননি।