চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ভোগ্যপণ্য সরবরাহে বড় সংকট-শঙ্কা
বিশেষ প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে ভোগ্যপণ্য সরবরাহে বড় সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খালাসের অপেক্ষায় আটকে পড়া জাহাজে বাড়ছে বিলম্ব ফি’র বোঝা। রমজানের আগে আমদানি পণ্য বাজারে পৌঁছানো নিয়েও আছে শঙ্কা। সমস্যা সমাধানে এখনও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের পরস্পরবিরোধী অবস্থানে বিপাকে আমদানি সংশ্লিষ্টরা।
নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে ইজারার সিদ্ধান্ত বাতিল চান শ্রমিক-কর্মচারীরা। এজন্য ৩০ জানুয়ারি থেকে বন্দরের কাজ বন্ধ রেখেছেন তারা। প্রথম তিনদিন ১৬ ঘণ্টা কাজ চললেও, মঙ্গলবার সকাল থেকে চলছে টানা কর্মবিরতি। এতে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ বন্ধ আছে। এছাড়া জেটিতে জাহাজ ভেড়াতে ট্যাগবোট ও পাইলটিং সার্ভিসও বন্ধ রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
বহির্নোঙরে পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় প্রায় দেড়শো জাহাজ। এসবের ৩৫টিতে রয়েছে আসন্ন রমজানের কথা বিবেচনা করে আমদানি করা চাল, ডাল, চিনি, তেলসহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এছাড়া রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য সার।
এ প্রসঙ্গে সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক বন্দর বিষয়ক সম্পাদক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই মৌসুমে প্রচুর সার আমদানি হয় এবং এই সারগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টগুলোতে পৌঁছে দিতে হয়। এই সারগুলো সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে, যে সার বোঝাই জাহাজগুলো গেছে সেগুলো টাইমলি (সময়মতো) আনলোড হচ্ছে না।’
এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘আমদানিকারক, রপ্তানিকারকরা ডেমারেজ দিয়েই চলছে, অন্যদিকে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত। এই যে চায়না হলিডে আসতেছে, ফরেন ইনভেস্টরদের একটি প্ল্যানিং আছে। সামনে রমজান আসছে, সবারই একটা প্ল্যানিং আছে। এতগুলো বন্ধ পড়ে গেছে। এর ভেতরে যদি তারা যথাসময়ে মাল না পায়, (তাহলে) প্রত্যেকে ক্ষতিগ্রস্ত (বলে) আমি মনে করি।’
আটকে পড়া জাহাজের প্রতিদিনের বিলম্ব ফি ১০-১৫ হাজার ডলার। খালাসে দেরি হওয়ার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরিরও শঙ্কাও আছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারই পরিস্থিতি জটিল করছে।বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়কারী হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে না বিধায় আমাদেরকে এগুলো বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে। ফলে বহির্নোঙরে কিছুটা জাহাজজট আছে। প্রত্যেকটা কাজের জন্য, প্রত্যেকটা কিছুর জন্যই আমি সরকার এবং কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছি।’ ভোগ্যপণ্যের ৩৫টি জাহাজের বাইরে বহির্নোঙরে আটকে আছে সার, ক্লিংকার, লবণবাহী আরও অন্তত ১০টি জাহাজ।




