• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

ইন্টারন্যাশনাল ফেসিস্ট ট্রাম্প তুলে নিয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে


প্রকাশিত: ৬:৫৩ পিএম, ৩ জানুয়ারী ২৬ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯৫ বার

‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফেসিস্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর যার মুল্লুক তারের মত প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : একেই বলে ইন্টারন্যাশনাল ফেসিস্ট! জোর যার মুল্লুক তারের মত ট্রাম্প একটি দেশে হামলা চালিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে গেছে। ভেনেজুয়েলায় আজ শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।বিবিসির খবরে বলা হয়, মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থাপনা দুটির একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি।অন্য সামরিক ঘাঁটি হলো ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি। এটিতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকেন বলে মনে করা হচ্ছিল।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ওদিকে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকানদলীয় সিনেটর মাইক লি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর তাঁকে উদ্বৃত করে ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের এই সিনেটর বলেন, বামপন্থী নেতা নিকোলা মাদুরোকে আটক করার পরই এ অভিযান শেষ হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে আলাপের বরাত দিয়ে আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাইক লি লেখেন, ‘তিনি আশা করছেন, মাদুরো যেহেতু এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে, তাই ভেনেজুয়েলায় আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।’

এর আগে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই হামলা চালানো হচ্ছে। হামলার মুখে দেশে জরুরি অবস্থা জারি জারি করেছে ভেনেজুয়েলার সরকার। রাজধানী কারাকাস ছাড়াও মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গাইরা প্রদেশেও হামলার কথা জানা গেছে।বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ভেনেজুয়েলার রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্রই হামলা চালাচ্ছে। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলা সরকার বলেছে, এই ধরনের ‘ঔপনিবেশিক’ যুদ্ধ বিশ্বশান্তিকে হুমকির মুখে ফেলছে।

এর আগে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এসময় বেশ নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া কয়েকটি বিমানও লক্ষ্য করা গেছে। তবে এগুলো সামরিক বিমান ছিল কিনা সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করেনি এই সংবাদমাধ্যম। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকা বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মাদক পাচার দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তবে গত সপ্তাহে তার দেশের ওপর ‘কথিত’ সিআইএ-নেতৃত্বাধীন হামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে সুর কিছুটা নরম করলেও মাদুরো আবারও অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সরকারকে উৎখাত এবং ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পেতে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করছে।

তিনি বলেন, ‘তারা যদি তেল চায়, তাহলে শেভরনের মতো মার্কিন বিনিয়োগের জন্য ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত।’ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নে সরাসরি জানতে চাইলে মাদুরো বলেন, ‘এটি নিয়ে হয়তো আমরা কয়েক দিনের মধ্যে আলোচনা করতে পারি।’ট্রাম্প প্রশাসনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে এখন পর্যন্ত ৩৫টি হামাল চালানো হয়েছে। এসব হামলায় কমপক্ষে ১১৫ জনের প্রাণ গেছে।