• শুক্রবার , ৬ মার্চ ২০২৬

আলী রিয়াজের প্রমোশন ইউনূসের-ভাষনে নাখোশ বিএনপি জামায়াত


প্রকাশিত: ৭:৪৭ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২৫ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২২৪ বার

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ভাষনে নাখোশ হয়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে নিজের সই করা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন। জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

লাবণ্য চৌধুরী : এবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতির ‘উপদেষ্টা’ পদমর্যাদায় প্রমোশনের দিনে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ভাষনে নাখোশ হয়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে নিজের সই করা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন।ওদিকে গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো যখন বিশ্লেষনে ব্যস্ত তখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এর প্রমোশন দিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস।তাকে উপদেষ্টা পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

আলী রীয়াজের প্রমোশন-

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস অধ্যাপক আলী রীয়াজকে তার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগদান করেছেন।

বিশেষ সহকারী পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন আলী রীয়াজ উপদেষ্টার পদমর্যাদা, বেতন-ভাতাদি ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্য হবেন বলেও জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।উল্লেখ্য, অধ্যাপক রীয়াজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান পদে দায়িত্ব পান। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে তাকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি করা হয়।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভাষণের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ভাষণের মাধ্যমে নিজের সই করা জুলাই সনদ লঙ্ঘন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকালে এ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করেছেন ইউনূস:সালাহউদ্দিন

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কারণ জাতীয় সনদে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং এ ভাষণের মাধ্যমে তা তিনি লঙ্ঘন করেছেন। আপাতত এটুকুই আমার প্রতিক্রিয়া।তবে জুলাই সনদ লঙ্ঘন কীভাবে হয়েছে- এই বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেননি এই বিএনপি নেতা।দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপের পর সন্ধ্যা নাগাদ বিএনপির দলীয় প্রতিক্রিয়া জানা যাবে বলে জানান সালাহউদ্দিন।তবে বিএনপি বলছে, সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা নেই, তিনি শুধু অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে এক সঙ্গে আয়োজনের ঘোষণা দেন।এদিন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন, সেখানে গণভোট কী প্রশ্ন থাকবেন তা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে কোনোভাবেই সংস্কারের লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোটের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন উপযুক্ত সময়ে প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, গত ৯ মাস ধরে রাষ্ট্র গঠনের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছে। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ ৩০টি বিষয়ে একমত হয়েছে দলগুলো। এটি ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। এজন্য কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ড. ইউনূস আরও বলেন, জুলাই সনদের আলোকে আমরা গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করেছি। আমি প্রশ্নটি এখন আপনাদের সামনে পাঠ করে শোনাচ্ছি। প্রশ্নটি হবে এরকম : আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?

ক) নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

খ) আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

গ) সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে আপনি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে আপনার মতামত জানাবেন। এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি এই আদেশে স্বাক্ষর করেন।

বিএনপি স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় এই বৈঠক হবে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে।বৈঠকের বিষয়ে তথ্য দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। পরে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি-জামায়াত

গণভোট অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় জন আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ঘোষণায় জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি। এর মাধ্যমে ভোটার বিভ্রান্ত হবে এবং সংকট তৈরি হবে। এই সংকট নিরসনের জন্যই জামায়াতসহ আটটি সমমনা দল দাবি করে আসছিল যে গণভোট হবে নির্বাচনের আগে। অথচ আজকের ঘোষণার পর সেই সংকট থেকেই গেল।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও সাশ্রয়ী হবে। গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘গণভোটের ব্যালটে কি থাকবে আর থাকবে না, তা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা কিছু বিষয় জানিয়েছেন। সেটি নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন। এরপর আরও বিস্তারিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম বহাল থাকবে। ১৬ নভেম্বর দুপুরের সংবাদ সম্মেলনে ৮ দল সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া জানাবে।’