আমি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি : আগামী সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একজন কাউন্সিলরও যদি না চায়, নেতৃত্ব থেকে সরে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য- যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি চাই দলে নতুন নেতৃত্ব আসুক। দলে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে বিদায় নেয়ার জন্য আমি প্রস্তুত।
তিনি বলেন, যেদিন থেকে আওয়ামী লীগে আমার অবর্তমানে আমাকে প্রেসিডেন্ট করা হয়েছে তখন থেকেই আমি এই শর্ত মেনে যাচ্ছি। এটা ঠিক যে দীর্ঘদিন হয়ে যাচ্ছে। অবশ্যই আমি চাই নতুন নেতৃত্ব আসুক।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আরও বলেন, কাউন্সিলররা নেতৃত্ব ঠিক করে থাকে। কাউন্সিলরদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমার তো অশনী সময় হয়ে গেছে। জাতির পিতা বাংলাদেশ স্বাধীন করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দিয়েছেন। এরপর এদেশে ঘটেছে হত্যা, ক্যুর রাজনীতি, গণতন্ত্র ছিল না। মিলিটারি শাসক ছিল। অনেক চড়াই উৎরাই পার করে গণতন্ত্র উদ্ধার করেছি।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০২২ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে একটানা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে। এরমধ্যে অগ্নিসংযোগসহ অনেক ঘটনা ঘটেছে। এরপরও আমরা একটানা ক্ষমতায় থাকায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এখন আমি বিদায় নেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।আগামী বছর মহাসংকটের বছর হতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো সচল রয়েছে। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও এবারের বাজেটে আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আমাদের যে রিজার্ভ আছে তাতে পাঁচ মাসের খাদ্য মজুদ আছে, সংকট মোকাবিলার জন্য আমরা প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে সোমবার রাতে ঢাকায় ফেরেন শেখ হাসিনা। ১৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে লন্ডনে যান তিনি। সেখানে তিনি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং রাজা তৃতীয় চার্লসের সিংহাসনে আরোহণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডন ত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেন এবং এর ফাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সময় ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সড়কপথে নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যান প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা।



