• মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ ২০২৬

আমাদের বুকে ৫২-৭১ যেমন তেমনি জুলাই সনদ’ও ধারণ করি: আইনমন্ত্রী


প্রকাশিত: ৩:৪৬ এএম, ১৭ মার্চ ২৬ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩২ বার

জুলাই সনদের ৮৪টি অনুচ্ছেদই পড়ে দেখেছি। সেই অনুচ্ছেদের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা আছে সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে। আমরা সেই পথেই হেটে চলেছি

 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘জুলাই সনদ ও জুলাই বিপ্লব নিয়ে যারা খুব কথা বলছেন যে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছে না। আমরা তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অধ্যায় আমরা ভালো করে পড়ে, দেখে, বুঝে তা বাস্তবায়ন করবো। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ব্যতয় নেই।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচীর আওতায় ঝিনাইদহ জেলার ২ডি-৭এন নিষ্কাশন খাল খননের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বুকে যেমন ৫২ ধারণ করি। আমরা যেমন ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ধারণ করি, ৮২ থেকে ৯০ পর্যন্ত রক্ত দিয়ে অর্জিত নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ধারণ করি, আমরা ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের যেসমস্ত সহকর্মীদের জীবন দিতে হয়েছে, ক্রসফায়ার-গুম ও মিথ্যা গায়েবী মামলার শিকার হতে হয়েছে তাদেরকে যেমন ধারণ করি আমরা জুলাই সনদের প্রতিটি অধ্যায়কেও ধারণ করি।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের ৮৪টি অনুচ্ছেদই পড়ে দেখেছি। সেই অনুচ্ছেদের প্রথম অনুচ্ছেদে বলা আছে সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে। আমরা সেই পথেই হেটে চলেছি। আমরা মিথ্যা আশ্বাস, মিথ্যা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই না। আমাদের স্বচ্ছতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ আমরা দিতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ আগামী দিনে যে পথে হাঁটতে যাচ্ছে সে কথার আমরা শুধু ফুলঝুরি ছড়াইনি। ভোট দেওয়ার সময়ে আঙুলের কালো দাগ মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের মাঠে এসে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সে সমস্ত প্রতিশ্রুতির অনেকটাই বাস্তবায়ন হয়েছে এবং অনেকটাই বাস্তবায়নের পথে আছে।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেড় হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলী কার্ড প্রদান, ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত-সেবকদের বেতন-ভাতা কর্মসূচিও উদ্বোধন হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যানের অংশ হিসেবে একটা একটা করে তার প্ল্যান বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। পহেলা বৈশাখে কৃষকেরা কৃষি কার্ডের আলোর মুখ দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদীনালা-খাল-বিল খনন করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ দেশের ৫৪টি জেলায় খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। সুতরাং আমরা শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়াইনা, আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিই না। বিএনপি যেটা বলে সেটা করার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে যা কিছু কল্যাণকর ও জনকল্যাণমুখী তার অধিকাংশ মুক্তির পথ দেখেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতধরে। সেই আদর্শের ধারাবাহিকতায় তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগপর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যে যুগপৎ ভূমিকা রেখেছেন তা আমাদের নিত্যদিনের সাহস যোগায়। আমরা বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে প্রেরণা পেয়েছি। তার কর্ম স্পৃহা থেকে আমরা যখন নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি সেই স্বপ্নের পথে দিশারী হয়ে, আমাদের ভ্যানগার্ড হয়ে প্রধান সেনাপতি হয়ে পথ দেখাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।’

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান ইতিমধ্যে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। যদি কেউ ভুল করে সে পথে পা বাড়ান তাহলে প্রশাসন তার আইনি ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠাবোধ করবেন না।তিনি বলেন, ‘বিএনপি কাউকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি করার লাইসেন্স দেয়নি। ৫/১০ জন চাঁদাবাজি করবেন, দুর্নীতি করবেন তার দায় বিএনপির ঘাড়ে এসে পড়বে। এটাকে আমরা যদি ক্যান্সার মনে করি সেই ক্যান্সার আমরা ছেটে ফেলবো।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। অন্যানের মধ্যে বক্তৃতা করেন, ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো: আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব, জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল মজিদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, রাশেদ খানসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ। খাল খনন উদ্বোধন শেষে মন্ত্রী খালপাড়ে একটি গাছের চারা রোপন করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।