• শুক্রবার , ১৯ জুলাই ২০২৪

শিক্ষক-শিক্ষার্থী আন্দোলন-রুদ্ধদার বৈঠকে ৫ মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশিত: ১১:৩৩ পিএম, ৮ জুলাই ২৪ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১২ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারি চাকরিতে কোটা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বাতিলের আন্দোলন নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন সরকারের ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।এতে অংশ নেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সামছুন্নাহার চাঁপা এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত। অবশ্য বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে গণমাধ্যমকে কিছু জানাননি তারা। বৈঠকে অংশ নেওয়া মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরা বলছেন, আদালতে যে বিষয় বিচারাধীন, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে রায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।

বৈঠকের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আদালতে যে বিষয়টি বিচারাধীন আছে সেটা নিয়ে সেটা নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করব না। যারা এই দাবিটা করছেন তাদেরও অপেক্ষা করতে হবে। সরকার তো ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে আপিল করেছে। প্রজ্ঞাপন বাতিল করে হাইকোর্টের যে আদেশটা ছিল, সরকার কিন্তু সেটা বহালের জন্য আপিল করেছে। সুতরাং এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারছি না।’

আর তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, ‘সামগ্রিক বিষয় নিয়েই কথা বলেছি। এটা একটা কনফিডেনশিয়াল মিটিং। এটা নিয়ে আমরা বাইরে কিছু বলতে পারব না। কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা আলাপ আলোচনা করছি।’ শিগগিরই কোটা ও পেনশন স্কিম সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন মন্ত্রীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। এতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।

পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে। বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে।

মূলত এরপর থেকেই আবারও কোটা সংস্কারের দাবিতে জোর আন্দোলন শুরু করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়মিত সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করছেন। এতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।অন্যদিকে সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’ বাতিল চেয়ে আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মচারীরাও। তাদের দাবি, এই স্কিম বৈষম্যমুলক। এটি বাতিল না করা পর্যন্ত তারা ক্লাশ, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কোনো কাজে অংশ নেবেন না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা।

শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মধ্যে গত রোববার সকালে গণভবনে যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, কোটার বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সময় নষ্ট করছে শিক্ষার্থীরা।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ কোটা বাতিল করার আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এটা সাবজুডিস ম্যাটার, আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সময় নষ্ট করছে শিক্ষার্থীরা। এ আন্দোলনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।’