• সোমবার , ২২ জুলাই ২০২৪

চট্টগ্রাম পাথরঘাটা বিদ্যুত অফিসে সিন্ডিকেট ঘুষখোরদের তাফালিং-সাংবাদিক মারধর/ক্যামেরা ভাংচুর


প্রকাশিত: ৯:৪৬ পিএম, ২৮ আগস্ট ২২ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩১৫ বার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ঘুষ নিয়েও ডিজিটাল মিটার সংযোগ না দেয়ায় সিনিয়র ফটো সাংবাদিককে মারধর করে নগদ টাকা ক্যামেরা ভাংচুর করেছে চট্টগ্রাম বিদ্যুত বিভাগের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ ৩ দুবৃত্ব। এ ঘটনায় দি ডেইলী লাইফ পত্রিকার সিনিয়র ফটো জার্নালিষ্ট প্রদীপ কুমার শীল আজ ২৪ আগস্ট বুধবার চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এক নম্বর আদালতে ফৌজদারী আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীরা নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার সংলগ্ন স্টেশন রোডস্থ বিদ্যুৎ, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (পাথরঘাটা) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ তার ৩ সহযোগী।

সিনিয়র ফটো জার্নালিষ্ট প্রদীপ কুমার শীল বলেন, দ্রুত সময়ে ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটার লাগানোর নামে ঘুষসহ ১৩ হাজার টাকা গ্রহণের পর মিটার সংযোগ না দিয়ে বারবার কালক্ষেপণ করছিল আসামীরা। এ অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল দেবের আদালতে মামলাটি (সি.আর মামলা নং ১৯৬১/২০২২) দায়ের করি। পরে আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পিবিআই মেট্টোকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ মামলার আসামীরা হচ্ছে-উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম, মিটার রিডার মোঃ নেছার প্রকাশ নেছার আহমেদ ও লাইনম্যান মোঃ সেলিম।

মামলার বিবরণে প্রকাশ, মামলার ২ নম্বর সাক্ষী নগরীর ৪৯ শাহ্ আমানত রোড প্রকাশ জেল রোডের ‘প্রমা হার্ডওয়ার’ এর স্বত্ত্বাধিকারী সুদর্শন বিশ্বাস তার বাসা ও গোডাউনে ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপনের জন্য স্টেশন রোডস্থ বিদ্যুৎ, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে (পাথরঘাটা) আবেদন করেন। এর পর বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম, মিটার রিডার মোঃ নেছার প্রকাশ নেছার আহমেদ ও লাইনম্যান মোঃ সেলিম দ্রুত সময়ে ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটার লাগানোর নামে আবেদনকারী থেকে ঘুষসহ ১৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

সুদর্শন বিশ্বাসের ডিজিটাল বৈদ্যুতিক মিটারের জরুরী প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়ায় আসামীরা মিটার সংযোগ না দিয়ে বারবার কালক্ষেপণ করতে থাকে। সুদর্শন বিশ্বাস আর কোন উপায় না পেয়ে মিটার সংযোগের নামে ১৩ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশের জন্য মামলার বাদী সাংবাদিক প্রদীপ কুমার শীল অনুরোধ করেন। বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপনের বিষয়ে বিগত ২৫ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৩টায় মামলার বাদীকে নিয়ে সুদর্শন বিশ্বাস আসামীদের অফিসে গিয়ে বিষয়টি জানতে চায়। এ সময় আসামীগণ ও ২৫-৪৫ বছরের সন্ত্রাসী প্রকৃতির অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন মিলে বাদীকে ঝাপটে ধরে করিডোরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বৈদ্যুতিক কাজে ব্যবহৃত লোহার রডসহ বিভিন্ন ইক্যুপমেন্ট দিয়ে আঘাত করে এবং তার সাথে থাকা একটি নিকন ডি-৭৫০ ডিএসএলআর ক্যামেরা ও স্যামসাং এ-১০ মোবাইল সেট ভাংচুর করে।

একইসাথে আসামীরা বাদীর পকেটে থাকা নগদ ১৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে বাদীকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি প্রদান করে চলে যায়। বিষয়টি আগ্রাবাদ বিদ্যুৎ ভবনের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম চৌধুরীকে মৌখিকভাবে জানানো হলে তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু মীমাংসার জন্য মামলার বাদী সাংবাদিক প্রদীপ শীলকে আশ্বাস দিয়েও কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।