• শুক্রবার , ১৯ জুলাই ২০২৪

ঘুমপাড়ানি ডাইনী মা-


প্রকাশিত: ১১:০২ পিএম, ১৩ জানুয়ারী ২৪ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৭৬ বার

ছেলেকে ঘুমিয়ে বালিশ চাপায় খুন

 

মীরা নায়ার দিল্লী থেকে : একেই কি বলে ডাইনী মা! তা না হলে সে মা কেন শিশু সন্তানকে হত্যা করবে? এ প্রশ্ন অনেকের। এ ঘটনায় ভারতে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী পুলিশকে জানায়, হত্যার আগে ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে সন্তানকে ঘুম পাড়িয়েছিলেন সূচনা। ছেলে ঘুমিয়ে গেলে তার মুখে বালিশ চেপে ধরে খুন করা হয়।

অভিযুক্ত ওই নারীর নাম সূচনা শেঠ। তিনি বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সিইও। গত ৭ জানুয়ারি নিজের চার বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগ ওঠে সূচনার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি গোয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছেলেকে খুন করে লাশ সুটকেসে ভরে ট্যাক্সি নিয়ে বেঙ্গালুরু রওনা হন।

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কর্নাটকের চিত্রদুর্গে তাকে গ্রেফতার করা হয়।ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সূচনা শেঠকে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার আগে ঘুমপাড়ানি গান গেয়ে সন্তানকে ঘুম পাড়িয়েছিলেন সূচনা। ছেলে ঘুমিয়ে গেলে তার মুখে বালিশ চেপে ধরে খুন করা হয়।

এছাড়া সূচনা যে সুটকেসে তার শিশুসন্তানের লাশ ভরে নিয়ে গোয়া থেকে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন, সেখান থেকে একটি টিস্যু পেপার উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেই টিস্যুতে আইলাইনার দিয়ে লেখা ছিল পাঁচটি লাইন। সেখানে নিজের বিষাক্ত দাম্পত্য এবং স্বামীর ওপর রাগের কথা লিখেছিলেন সূচনা। তবে টিস্যুতে ঠিক কী কী লেখা ছিল, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, ওই রাতে সন্তানকে ওষুধও খাওয়ানো হয়েছিল। ঘর থেকে কাফ সিরাপের খালি দুটি বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। অ্যাপার্টমেন্টের এক প্রহরী জানিয়েছেন, তাকে দিয়ে একটি ওষুধের বোতল কিনিয়েছিলেন সূচনা। ফলে খুনের বিষয়টি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক আদালতে সূচনার সঙ্গে তার স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছিল। আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, প্রতি রোববার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন সূচনার স্বামী। আদালতের এ নির্দেশ সূচনা মেনে নিতে পারেননি। তার ছেলের সঙ্গে স্বামীর মুখের মিলও ছিল অনেক। ঘনিষ্ঠ মহলে সূচনা দাবি করতেন, ছেলেকে দেখলে স্বামীর কথা মনে পড়ে যায় তার।সূচনার অভিযোগ, স্বামী ছেলেকে নিজের মতো করে তৈরি করছেন। নিজের গুণ ছেলের মধ্যে সঞ্চারিত করতে চাইছেন। আর এসব কারণেই ছেলেকে খুনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ।