• বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন ২০২৪

ইরান জয়ে যাচ্ছে জয়ার ফেরেশতে


প্রকাশিত: ১১:৩৮ পিএম, ১১ জানুয়ারী ২৪ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৫১ বার

 

লাবণ্য চৌধুরী : এবার ইরানের চলচ্চিত্র উৎসবে মূল ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে জয়ার সিনেমা ‘ফেরেশতে’। দুই বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে বলিউডেও প্রশংসিত হয়ে এবার জয়া ইরান জয় করবেন। অভিনেত্রী জয়া আহসান এর ‘ফেরেশতে’ এবার ফজর চলচ্চিত্র উৎসবে মূল ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে ।

তেহরানে ৪২তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ইরানের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকারদের সিনেমার সঙ্গে লড়বে মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত সিনেমাটি। সিনেমায় জয়া অভিনয় করেছেন সংগ্রামী নারীর চরিত্রে। ছবিটির শুটিং হয়েছে ঢাকার আশপাশের এলাকায় এবং ইরানে।

ইরান-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এ সিনেমায় জয়া ছাড়াও অভিনয় করেছেন রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুমন ফারুক, শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহেদ আলী প্রমুখ। চলচ্চিত্রটির গল্প রচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুমিত আল রশিদ ও চলচ্চিত্রটির পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম। ইরান-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘ফেরেশতে’ সিনেমাতে সহ-প্রযোজক হিসেবে ছিলো ম্যাক্সিমাম এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ।

সিনেমার প্রসঙ্গে জয়া আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, এই সিনেমায় কাজ করাটা আমার জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং ছিলো। সিনেমার পুরো টিম তাদের নিজ দেশের ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু, চলচ্চিত্রের তো আর ভাষা নেই। সেজন্য আমরা দারুণভাবে সংযোগ করতে পেরেছি। এটি মানবিক মূল্যবোধ ও অনুভূতির মিশেলে তৈরি হয়েছে। বিশ্বের সিনেমাপ্রেমী মানুষদের ‘ফেরেশতে’ মুগ্ধ করবে।

ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে ফজর চলচ্চিত্র উৎসব। তার আগে ২০ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ২২তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে জয়ার এই সিনেমা। গত বছর ভারতের গোয়া চলচ্চিত্র উৎসবে ফেরেশতে দেখানো হয়েছিলো।

বাংলাদেশে পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন জয়া আহসান। ওপার বাংলায় তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। এবার তাকে বাংলাদেশ-ইরান যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্রে দেখা যাবে।

জয়া আহসান জন্ম গোপালগঞ্জ জেলায়। ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ব্যাচেলর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জয়ার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। পরে দীর্ঘ ৬ বছর পর নুরুল আলম আতিক পরিচালিত ডুবসাঁতার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

২০১১ সালে তানিম নূর পরিচালিত ফিরে এসো বেহুলা এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন জয়া। গেরিলায় বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এ জুরিদের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ নারী চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন।

২০১৩ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৪ সালে প্রদত্ত বাচসাস পুরস্কার-এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মুক্তি পায় জয়া অভিনীত ‘পুত্র’। সাইফুল ইসলাম মান্নু পরিচালিত এই ছবিতে একজন অটিস্টিক শিশুর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

এনেছি সূর্যের হাসি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয়ের পর জয়া জাতিসংঘের নারী ও শিশু সহায়তা বিভাগের শুভেচ্ছা দূত হন। ২০১৬ সালে তিনি চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ইন্সপায়ারিং ওমেন অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। ২০২২ সালে বিনি সুতোয় চলচ্চিত্রের জন্য জয়া আহসান বাংলা ভাষার জনপ্রিয় সাময়িকী আনন্দলোক সেরা অভিনেত্রী সম্মাননা অর্জন করেন।