‘২০১৮ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ুন’

31-12-17-PM_AL Meeting Jossore-4

বিশেষ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংরেজি নতুন বছর ২০১৮ উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০১৮ সালকে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুনের আহ্বানে পুরাতন সব জঞ্জাল ধুয়ে-মুছে নতুন সূর্যের আলোয় আলোকিত হোক আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। নতুন বছর আমাদের সবার জীবনে অনাবিল সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনুক। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে এই প্রার্থনা করি।’

নতুন বছর উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসুন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যমআয়ের এবং ২০৪১ সালের আগে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করব ইনশাল্লাহ।’

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৭ সালকে আমাদের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বছরটি ছিল বাংলাদেশের জন্য সাফল্যময় বছর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ।’

‘বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে।মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্নআয়ের স্তর থেকে মধ্যমআয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশের বেশি হয়েছে। দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোড়গোড়ায়। সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দরিদ্রমানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭১ বছর ৮ মাস হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে আরো বলেন, ‘সারাদেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করছি। চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সমুদ্রবন্দর পায়রার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করেছি। জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার বিচার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে। বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে। অসাংবিধানিক ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে তার সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে।’

২০১৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অবদ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ অর্জন বাঙালি জাতি হিসেবে অত্যন্ত গৌরবের জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com