রংপুর সিটি’তে ক্রোড়পতিদের নির্বাচন

এসএম খলিল বাবু  :  রংপুর সিটি’তে এবার ক্রোড়পতিরা নির্বাচন করছে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র Rangpur city-www.jatirkhantha.com.bdপদপ্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি আওয়ামী লীগের সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টুর এবং কম জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার। এ ছাড়া আর্থিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণের মধ্যে আছেন বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখ করা আয়-ব্যয়ের তথ্য বিবরণী থেকে এসব জানা গেছে।

হলফনামায় সরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু নিজেকে বি.কম পাস বলে উল্লেখ করেন। আয়-ব্যয়ের বিবরণীতে তিনি জানান, তার নিজস্ব কোনো কৃষি জমি নেই। বার্ষিক আয় ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর মধ্যে ছাত্রাবাস ভাড়া থেকে পান ৭৫ হাজার টাকা, স্ত্রীর ব্যবসায় থেকে ৫ লাখ ৭১ হাজার, ছেলের চাকরি থেকে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ এক লাখ ২৭ হাজার ৫০০, মেয়র সম্মানী ১১ লাখ ৪ হাজার, ছেলের ভবন ভাড়া থেকে ১৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৪০ টাকা আয় করেন।

নিজ নামে নগদ আছে ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে আছে ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৮ টাকা। ছেলের নামে ৮৪ হাজার ৩৬৬ টাকা। এ ছাড়া তার নামে ব্যাংকে জমা আছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৪ টাকা, স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ৫০ হাজার ৬২ টাকা এবং ছেলের নামে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩৩৮ টাকা।

শেয়ার হিসাবে নিজ নামে আছে ১৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং ছেলের নামে আছে ৫ লাখ টাকা। পোস্টাল ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ আছে নিজের নামে ২ লাখ, ছেলের নামে ১৭ লাখ টাকা।সম্পদের ক্ষেত্রে ছেলের নামে আছে একটি প্রাইভেটকার। সেই সঙ্গে নিজ নামে ২ ভরি ও স্ত্রীর নামে ৬ ভরি এবং ছেলের নামে ১৩ ভরি স্বর্ণ রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বাণিজ্যিক ভবন ও একটি তিনতলা বাড়ি।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন স্নাতক পাস। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬৪ হাজার ২৭২ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ৭২ হাজার এবং ব্যবসা থেকে ২ লাখ ৯২ হাজার ২৭২ টাকা আয় দেখানো হয়েছে। নিজ নামে নগদ আছে ৭ লাখ ৫০ হাজার, স্ত্রীর নামে ২০ হাজার টাকা।

ব্যাংকে নিজ নামে আছে ১ লাখ ৫০ হাজার, স্ত্রীর নামে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সম্পদের মধ্যে আছে একটি মোটরসাইকেল, স্ত্রীর কেনা ১০ ভরি স্বর্ণ। এ ছাড়া নিজ নামে ১৬ শতক এবং স্ত্রীর নামে ৬ শতক জমি আছে। জনতা ব্যাংকে ঋণ আছে ১৫ লাখ টাকা।

কাওসার জামান বাবলার হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন স্নাতক পাস। তার বার্ষিক মোট আয় ১৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে ৫০ হাজার, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ২ লাখ ৪ হাজার, ব্যবসা থেকে ১৩ লাখ টাকা আয় করেন। নগদ টাকা আছে মাত্র ২ লাখ। ব্যাংকে জমা আছে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

সম্পদের মধ্যে আছে দুটি জিপ, একটি প্রাইভেটকার, দুটি ফ্ল্যাট, একটি বাড়ি ও দুই ভরি স্বর্ণ। কৃষি জমি আছে ২ হাজার ৭৫০ একর। অকৃষি জমি ১ দশমিক ৪ একর। নিজ নামে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে ঋণ আছে ৮ কোটি এবং যৌথ নামে সোনালী ব্যাংকে ঋণ ৪২ কোটি টাকা।

আরেক মেয়র প্রার্থী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ হলফনামায় নিজেকে এইচএসসি পাস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়া থেকে আয় ৩৫ হাজার, ব্যবসা থেকে ৭ লাখ টাকা।

ব্যাংকে আমানত আছে ৮৩১ টাকা। নগদ আছে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬২১ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ২৪ হাজার ১২৬ টাকা। সম্পদের মধ্যে আছে ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা দামের একটি জিপ গাড়ি, স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণ, কিছু অকৃষি জমি ও একটি সেমিপাকা বাড়ি। ব্যাংকে ঋণ না থাকলেও ব্যক্তিগত ঋণ আছে ১০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে সাবেক পৌর মেয়র এ কে এম আবদুর রউফ মানিক বিএ পাস। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন, ১৪ লাখ ১১ হাজার ৬৯৮ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি, ফ্ল্যাট ও দোকান ভাড়া থেকে পান ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৭০১ টাকা। ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৭, শেয়ারবন্ড থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার এবং স্ত্রীর চাকরি সূত্রে পান ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

নগদ আছে নিজ নামে ১ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ৫ লাখ, স্ত্রীর নামে ৪০ লাখ ২৪ হাজার ৯৩৯ টাকা। সম্পদের মধ্যে আছে একটি প্রাইভেটকার, নিজের এক ভরি স্বর্ণ, স্ত্রীর ৪ ভরি স্বর্ণ, ৩২ শতক অকৃষি জমি, একটি ৪ তলা ও আরেকটি টিনশেড বাড়ি। হলফনামায় ৮ লাখ টাকা ঋণ আছে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com