মওদুদকে তোফায়েলের ওপেন চ্যালেঞ্জ!

বিশেষ প্রতিনিধি  :  বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘সরকারকে টেনেহিঁচড়ে ক্ষমতা থেকে নামানোর ক্ষমতা কি মওদুদ আহমদের আছে? আপনার যদি শক্তি থাকে, Tofayel-Moudud-www.jatirkhantha.com.bdআপনি চেষ্টা করতে পারেন।’গত সোমবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, আগামী নির্বাচন বিষয়ে সরকারকে সমঝোতায় আসতে হবে, না হলে সরকারকে অসম্মানজনকভাবে বিদায় নিতে হবে। তাঁর এ বক্তব্য বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ আজ বুধবার এ মন্তব্য করেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘৭ মার্চের মহাকাব্য-বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম–মুক্তিযুদ্ধ ’৭১। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমাকেও মানুষ চেনে, মওদুদ আহমদসহ তাদেরও চেনে।

আমি জনাব মওদুদ আহমদকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই সরকারের অধীনে ২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে যেকোনো দিন নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। ক্ষমতাসীন সরকার দৈনন্দিন কাজ করবে, অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি বলেন, সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামানো হবে—এ ধরনের অসাংবিধানিক বা অগঠনমূলক বক্তব্য মানুষ পছন্দ করে না।

তোফায়েল আহমেদ অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বানচালের জন্য বিএনপি ৫০০টি ভোটকেন্দ্রে আগুন দিয়েছিল। চারজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে। ৩৪ জন পুলিশকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে না সরিয়ে তিনি ঘরে ফিরবেন না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন এখনো, আপনার নেত্রী কোর্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরে গিয়েছিলেন।’

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সহজ না, তবে এটি অসাধ্যও নয়। ছয়জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দেশে বৈঠক করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্টও আসবেন। পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশে এসে মিয়ানমারে যাবেন। তিনি বলেন, ‘আজ হোক, কাল হোক— মিয়ানমার এসব মানুষকে ফেরত নিতে বাধ্য হবে।’

৭ মার্চের ভাষণ বিষয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ দেশে ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিলেন জিয়াউর রহমান। এরপর বিএনপি-জামায়াতের আমলেও এ ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, সেই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম–মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর মহাসচিব হারুন হাবীব। পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক নুরুল আলমের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আবুল কালাম আজাদ, নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক বুলবুল মহলানবিশ, কার্যকরী সদস্য শওকত হোসেন প্রমুখ।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com