ব্ল্যাকমানি’র পাহাড় সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের টাকার তদন্ত হচ্ছে!

শফিক রহমান  :  সারা বিশ্বের ব্ল্যাকমানি’র পাহাড় সুইস ব্যাংক এ বাংলাদেশীদের টাকার তদন্ত হচ্ছে ! সরকারের একাধিক ঘনিষ্ঠ sweesbank-www.jatirkhantha.com.bdসূত্র এর সত্যতা নিশ্চত করেছেন। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জাতিরকন্ঠ কে বলেছেন, অর্থ পাচারের রেকর্ড আওয়ামী লীগের নেই। বিএনপি বরাবরই অর্থ পাচার করে, এটা আদালতের মাধ্যমে প্রমাণিত। তারেক-কোকোর মানি লন্ডারিং এর কথা সবার জানা আছে।

তবে আওয়ামী লীগের কেউ সুইস ব্যাংকে টাকা রেখেছে এমন খবর আমরা পাইনি। প্রমান সহকারে তথ্য পেলে সে যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, সুইস ব্যাংকের টাকার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।এ দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই অর্থ বাংলাদেশ থেকে গেছে এটাতো কেউ বলেনি। তবে এ নিয়ে তদন্ত চলছে এবং সুইস ব্যাংকের কাছে এ নিয়ে তথ্য চাওয়া হবে।
Swees-bank-www.jatirkhantha.com_.bd_
অভিযোগ উঠেছে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের জমা দিনদিন বেড়েই চলছে। আর একই সাথে সুইস ব্যাংক সম্পর্কে বাংলার আম জনতার কৌতূহলও বেড়ে চলছে। আসলে সুইস ব্যাংক কি? একসময় সুইস ব্যাংক ছিল কিন্তু এখন আর সুইস ব্যাংক বলে কিছু নাই। জি হ্যাঁ ! ঠিকই পড়েছেন।

এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৫৪ সালে এবং ১৯৯৮সালে বন্ধ হয়ে যায়। তাইলে এত যে সবাই সুইস ব্যাংক সুইস ব্যাংক করে তা কি ফাও ? জিনা। সুইস ব্যাংক বলে এখন কোন একক ব্যাংক নাই। কিন্তু Swiss Financial Market Supervisory Authority (FINMA) এর অধীনে সুইজারল্যান্ডের সকল ব্যাংক যেমনঃ UBS,Credit Suisse ইত্যাদিই বর্তমানে সুইস ব্যাংক বলে পরিচিত।
sweesbank-www.jatirkhantha.com.bd.--
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুইস ব্যাংকগুলো যে দেশ-বিদেশের পাচার করা কালো টাকার অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে, তার ইতিহাস বহু আগের। প্রায় ৩০০ বছর আগে থেকেই সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে গোপন অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা চালু ছিল।

ফ্রান্সের রাজাদের সঞ্চিত অর্থ গোপন রাখার প্রবণতা থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৭১৩ সালে জেনেভার সিটি কাউন্সিলে যে আইন করা হয়, তাতে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টের হিসাব গোপন রাখার বিধান চালু করা হয়। কেবল গ্রাহক ছাড়া অন্য কারও কাছে অ্যাকাউন্ট–সম্পর্কিত তথ্য জানানো ছিল নিষিদ্ধ। মূলত তখন থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে অর্থ পাচার করে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে রাখার প্রবণতা শুরু হয়েছিল।

বর্তমানে অবশ্য আর ব্যাংকের কাছেও পরিচয় গোপন রেখে (অ্যানোনেইমাশলি) অ্যাকাউন্ট খোলা যায় না। তবে Numbered Accounts খোলা যায়। গ্রাহকের লেনদেনের তথ্য গোপন রাখার জন্যে তার নামের পরিবর্তে কিছু নাম্বারের সাহায্য নেয়া হয় এমন অ্যাকাউন্ট।

Union Bank of Switzerland ১৯৯৮ সালে the Swiss Bank Corporation এর সাথে যুক্ত হয়। এটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় সুইস ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। এর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৮২.৫ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক বা ১.০৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম সুইস ব্যাংক। ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকটির বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৭৮ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক। এটি বর্তমানে ৫০টিও অধিক দেশে কাজ করছে ও প্রায় ৪৫০০০ কর্মকর্তা, কর্মচারী রয়েছে।

সুইস ব্যাংকগুলোতে যেসব বাংলাদেশিরা অর্থ জমা রেখেছেন, বাংলাদেশ সরকার কি চাইলে তাদের পরিচয় জানতে পারবেন?
খুব সোজা উত্তর হচ্ছে না। কারণ সুইটজারল্যান্ডের সংবিধান এবং ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সেখানে ব্যাংক গ্রাহকদের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়।

তবে সুইস ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে বলা হচ্ছে, গোপনীয়তার অধিকার সুইস আইন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং ফেডারেল সংবিধান দ্বারা তা সুরক্ষিত। তবে কোন অপরাধের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা কাজ করবে না। অর্থাৎ সেখানে গচ্ছিত অর্থ যদি কোন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় প্রকাশে কোন বাধা নেই।

সুইস ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়, “অপরাধের তদন্তের ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের পরিচয় প্রকাশে বাধ্য, সেই অপরাধ সুইটজারল্যান্ডেই হোক, আর অন্য কোন দেশেই হোক।”

এদিকে বাংলাদেশিদের পাঁচ হাজার কোটি টাকা পাচার নিয়ে এখন বেশ তোলপাড় চলছে। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী সেদেশের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।আগের বছরের তুলনায় সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের রাখা অর্থের পরিমাণ প্রায় বিশ শতাংশ বেড়েছে।

বাংলাদেশ সরকার থেকে অর্থ পাচার রোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না থাকার ফলেই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সুইস ব্যাংকগুলোতে সারাবিশ্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রাখা হয় বলে দুর্নাম রয়েছে।

তবে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমাদের দেশে কোন বিদেশি এসে কিন্তু চাইলেই টাকা রাখতে পারবেন না, অনেক কাগজ লাগবে। কিন্তু অনেক তথাকথিত উন্নত দেশে বাইরের লোকজন টাকা এনে রাখতে পারেন এবং টাকাটি বৈধ কি অবৈধ সেটি প্রাইভেসির নামে প্রকাশ করা হয় না। ফলে অনেক অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ সেখানে লগ্নি করা হয় বা পাচার করা হয়”।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন- “ওভার ইনভয়েসিং বা আন্ডার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে মানি লন্ডারিং হয়। তবে এগুলো প্রতিরোধ করার জন্য আমাদের সংস্থাগুলো যথেষ্ট সজাগ রয়েছে”।

“আমাদের প্রবাসীরা যারা বিদেশে কাজ করেন তাদের অনেকেও সেখানে আয় করে সুইস ব্যাংকগুলোতে জমা রাখছেন। সব অর্থই যে দেশ থেকে গেছে এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই” বলেন মি. হাসান। তবে অর্থ যে শুধু সুইস ব্যাংকে পাচার হচ্ছে তা নয়। ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, বাংলাদেশ থেকে এশিয়া এবং ইউরোপের আরো অনেক দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হচ্ছে। এবং এনিয়ে সরকারও কোন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

দীর্ঘদিন যাবত সুইস ব্যাংকগুলোতে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে সেটিরও কোন তথ্য ছিল না। কিন্তু দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী, সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত কয়েক বছর যাবত সেদেশে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জমাকৃত অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করছে। সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেবল কোন দেশের নাগরিকরা সেদেশের ব্যাংকে কি পরিমাণ অর্থ রেখেছেন সেই তথ্যটাই প্রকাশ করেছে।

বিশ্বব্যাপী সুইস ব্যাংকগুলো পরিচিত গ্রাহকদের ব্যাপারে তাদের কঠোর গোপনীয়তার জন্য। আর ঠিক এ কারণেই সারা দুনিয়ার বিত্তশালী আর খ্যাতিমানরা সুইস ব্যাংকে তাদের অর্থ গচ্ছিত রাখেন।কাজেই যেসব বাংলাদেশিরা সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন, তাদের নাম-পরিচয় জানার কোন উপায় কি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের আছে?

ট্রান্সপারেন্সী ইন্টারন্যাশনালের ড: ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সুইস, মালয়েশিয়ান বা সিঙ্গাপুর যেকোন ব্যাংকেরই এখন বাধ্যবাধকতা রয়েছে তথ্য দেয়ার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যদি একসাথে সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করে তাহলে শুধু এই অর্থের বৈধতা যেমন জানা সম্ভব, তেমনি এগুলো ফিরিয়েও আনা সম্ভব”।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমানের অর্থ ফিরিয়ে আনার কথা। তবে এর পরে দেশের বাইরে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে তা কাদের সেটি খুঁজে বের করা অথবা সেটি ফিরিয়ে আনার তেমন কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি।ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, অর্থ পাচার দমনে যথেষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় একদিকে যেমন অপরাধীরা সুরক্ষা পাচ্ছে, অন্যদিকে পাচারও বাড়ছে।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com