বাংলায় নির্যাতন-বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভুখা মিছিল

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চল পর্ব ৮ :-

বাংলায় নির্যাতন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভুখা মিছিল

বাংলায় নির্যাতন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ভুখা মিছিল

custom-book2জাতিরকন্ঠ রিপোর্ট :  কারাগারে সতীনদা একদিন গল্পচ্ছলে বলিয়াছিলেন যে, কোন এক থানার বড় দারোগা বাবু স্বদেশী আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের ধরিয়ে দেন। উক্ত রাজবন্দীদের কিছু সংখ্যককে ব্রিটিশ রাজ গৌরনদী থানার অন্তরগত গৈলা অঞ্চলে গুলি করিয়া হত্যা করিয়াছিল। অতএব, পার্টি সিদ্ধান্ত হই্ল উক্ত দারোগা বাবুকে হত্যা করিতে হইবে।fajlul-haque

 শেরে বাংলার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

যুক্তফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

দারোগা বাবু কনিষ্ঠ ভ্রাতা সতীনদার দলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। গভীর রাতে তাহারা দারোগা বাবু বাড়িতে সিঁদ কাটিয়া অর্থাৎ মাটির ঘরের পিরায় গর্ত করিয়া ঘরের ভিতর ঢুকিয়া দারোগাবাবুকে হত্যা করিয়া সবাই বাহির হইয়া আসেন। কিন্তু নিহত দারোগাবাবুর ছোট ভাইকে নিহত দারোগাবাবুর আত্মীয়স্বজন ধরিয়া ফেলিল। তখন তিনি সাহায্যের জন্য আবেদন করিলেন।

 সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

সতীনদা তাহাকে বলিলেন কোন রকমে তোমার মাথাটা বাহির করিয়া দেও, আমরা তোমাকে বাহির হইতে সাহায্য করিব। উক্ত স্বদেশী বিপ্লবী অনেক কষ্ঠে তাহার মাথা বাহির করিলে সতীনদা তাহার সহকর্মীসহ অনেক চেষ্ঠা করিয়া যখন বাহির করিতে পারিলেন না, তখন বুঝিতে পারিলেন উদ্ধার করা কোন প্রকারেই সম্বব নহে, তাহার মস্তকটি কাটিয়া দ্বিখন্ডিত মাথাসহ উক্ত স্থান হইতে দলবলসহ  সরিয়া পড়িলেন।

তাহাকে হত্যা না করিলে সে ধরা পড়িত ও পুলিশের নির্মম অত্যাচারেন মাধ্যমে সতীনদাসহ বিপ্লবী দলের অন্য কর্মীদের সনাক্ত করিয়া দিতে তাহাকে বাধ্য করা হইত।সুতরাং তাহাকে হত্যা করা ছাড়া তাহাদের পুলিশের হাত হইতে বাঁচিবার আর কোন বিকল্প পথ ছিল না।

নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

নির্যাতিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

ঐ সময় বরিশাল কারাগারে বন্দী ছিলেন অনর্গলভাষী বক্তা প্রবীন নেতা অ্যাডভোকেট মরহুম বিডি হাবিবুল্লাহ ও সদ্য নির্বাচিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য তাহার অনুজ অ্যাডভোকেট এস, ডব্লিউ লকিতুল্লাহ, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মরহুম প্রফেসর রফিকুল

নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর প্রস্তাবের ওয়ার্কিং কমিটির অনান্য সদস সহ এ. কে. ফজলুক

নিখিল ভারত মুসলিম লীগের লাহোর প্রস্তাবের ওয়ার্কিং কমিটির অনান্য সদস সহ এ. কে. ফজলুক

ইসলাম, ভোলার শাহ মুজিবুল হক  চৌধুরী এমপি, আওয়ামী লীগের দুর্দিনের কর্মী ও সোহরাওয়ার্দী সাহেবের অন্ধ ভক্ত নেতা ভোলার শাহজাহান সাহেব, প্রখ্যাত ছাত্রনেতা ও পরবর্তীকালে শ্রমিকনেতা মরহুম বেলায়েত হোসেনসহ শতাধিক রাজনৈতিক নেতা ও্ কর্মী ।

উল্লেখ্য শাহজাহান সাহেবের জনপ্রিয় নাম ছিল ‘চুঙ্গামারা শাহজাহান’ কারণ আওয়ামী লীগ যখনই কোন আন্দোলন ও জনসভার আহবান করিত, তখনই শাহজাহান সাহেব টিনের চুঙ্গা লইয়া ঝাঁপাইয়া পড়িতেন কর্মসূচি প্রচারের জন্যে। তিনি সৎ একনিষ্ঠ কর্মী ও দেশপ্রেমিক ছিলেন।

ভাসানীর সঙ্গে বিশেষ মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু

ভাসানীর সঙ্গে বিশেষ মূহুর্তে বঙ্গবন্ধু

উক্ত প্রবীন রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দ ভারতের স্বাধীনতা ও পাকিস্তান আন্দোলনসহ যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে অনেক কষ্ঠ, নির্যাতন ও ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন।আজকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি তাহাদের রাজনৈতিক অবদান , অবর্ণনীয় নির্যাতন ভোগ, ত্যাগ ও তিতিক্ষার ইতিহাস।

পরবর্তীকালে ৯২ এর ক ধারার অবসান হইল। মরহুম আবু হোসেন সরকার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হইলেন।আর শেরে বাংলা ফজলুল হক সাহেবকে নিয়োগ দান করা হইল পূর্ব পাকিস্তাানের গভর্নর পদে। কিছুদিনের মাথায় খাদ্যের অভাব দেখা দিল। ১০ টাকা মন দরে চাইলের মূল্য বৃদ্ধি পাইল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঢাকা শহরে সদরঘাট হইতে ভুখা মিছিল বাহির হইল।

 

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com