বাংলাদেশ ‘সম্মুখসমরে লড়ে যাচ্ছে’

 
ডেস্ক রিপোর্টার :   রোহিঙ্গা সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ‘সম্মুখসমরে লড়ে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য finantional times-www.jatirkhantha.com.bdফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। বুধবার এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি বলছে, রাখাইনে এবারের সহিংসতার পর বাংলাদেশ ১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে প্রস্তুতি নিলেও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা এরই মধ্যে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, মানবিক সংকটে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে। তবে সংকট নিরসনে ঢাকার কূটনৈতিক তৎপরতা দুর্বল। রাখাইনে নিপীড়নের শিকার হয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ লাখ আর দেশে ফিরে যায়নি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন করে আসা প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। ফলে বাংলাদেশ এখন ৮-৯ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। দিন দিনই এ সংখ্যা বাড়ছে। জনবহুল ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ এ বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে নিয়ে আর্থিকভাবে ভীষণ চাপে পড়েছে।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশমুখী সে াত মানবিক সংকট তৈরি করেছে, সমস্যয় পড়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বলছে, বাংলাদেশ লাখ খানেক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এত লোকের চলে আসাটা বিরল ঘটনা। এ সংকট সিরীয় গৃহযুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ। সিরীয় শরণার্থীরা ধীরে ধীরে দেশ ছেড়েছে আর যেসব দেশে গেছে তাদের অবকাঠামোও উন্নত।

সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর সাগরপথে যত লোক ইউরোপে ঢুকেছে তার চেয়ে তিনগুণ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে মাত্র তিন সপ্তাহের কম সময়ে। এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. আলী রিয়াজ বিবিসিকে বলেছেন, এ মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশের এককভাবে যতটুকু করার করছে।

এ সংকটে গোটা আন্তর্জাতিক সমাজের একটা ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এটা মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। এটা মোকাবেলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত দুর্বল কূটনৈতিক উদ্যোগ নিচ্ছে।

তার ভাষায়, ‘এখন পর্যন্ত তাদের উদ্যোগ আমার দুর্বল মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ যে মানবিক ভূমিকা নিয়েছে সেটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হলেও নিউইয়র্কে কেন বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি নেই? সেখানে তারা উপস্থিত থাকলেও সেটা স্পষ্টভাবে কেন বলা হচ্ছে না। তিনি বলেন, বলতে হবে যে আমরা, বাংলাদেশ সেখানে উপস্থিত হয়েছি, এটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় আর নেই। এটা বাংলাদেশকেই বলতে হবে। আর কেউ বলবে না।”

আলী রিয়াজ বলেন, অন্য দেশের কাছ থেকে সমর্থন আদায় করা, তাদের মধ্য থেকে চাপটা আরও বেশি তৈরি করা- এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশের আরও বেশি দৃশ্যমান কূটনৈতিক উদ্যোগ দরকার। এখনও সময় আছে, অব্যাহতভাবে এটি করতে হবে।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com