পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণে বাংলায় ছিল শুধু অভাব অনটন ক্ষুধা আর ‘ফু’

politisian-nurul-islam-monjur-www-jatirkhantha-com-bdবাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চল:saturia-palace-www-jatirkhantha-com-bd

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চল পর্ব ৬ :-

১৯৫৬ সালে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান

১৯৫৬ সালে প্রধানমন্ত্রী সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে শিল্পমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান

pak-2

জাতিরকন্ঠ রিপোর্ট : মরহুম শেরে বাংলা হক সাহেব দুঃখ করিয়া এক নির্বাচনী প্রচাpllর সভায় বলিয়া ছিলেন যে, কেন্দ্রে ও প্রদেশে মুসলিম লীগ সরকারের দুঃশাসন , অদক্ষতা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি,

স্বৈরাচার ও পূর্ব পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক শোষণের জন্য পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাঙ্গিয়া পড়িয়াছে।

কায়দে আযম মোঃ আলী জিন্নাহ'র সঙ্গে শেরে বাংলা

কায়দে আযম মোঃ আলী জিন্নাহ’র সঙ্গে শেরে বাংলা

বাংলার সর্বত্রই অভাব অনটন। পাক-স্বাধীনতা পূর্বকালে অনেকের বাড়িতে পুকর ভরা মাছ, গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গাই-গরু ও চাষের বলদ ছিল।তখনকার দিনে মানুষ ছিল দীর্ঘকায় ও স্বাস্থ্যবান।

সুতরাং তাদের পানাহারের পরিমানও ছিল বেশী এবং ব্যবহৃত থালা-বাসন ও গ্লাস ছিল বৃহৎ। দুর্ভাগ্যবশত এখন আর পুকুরে মাছ নাই, গোলায় ধান নাই ও গোয়াল ঘরের গাই নাই। আছে শুধু অভাব অনটন, ক্ষুধা আর ‘ফু’।

পূর্বে বড় বড় গ্লাসে গরম দুধ ‘ফু’ দিয়া ঠান্ডা করিয়াpkp গ্রামের মানুষ পান করিতেন। অতএব আর দেরি না করিয়া ‘ফু’ দিয়া মুসলিম লীগের pak-3নির্বাচনী প্রতীক হেরিকেন নিভাইয়া দিয়া যুক্তফ্রন্টের নৌকায় উঠিয়া পড়ুন এবং বাংলার মানুষের বাঁচার দাবি ২১ দফা বাস্তবায়নের জন্য যুক্তফ্রন্টকে জয়যুক্ত করুন’।pak-1

শেরে বাংলা হক সাহেব অনেক সময় জনসভায় গল্পের মাধ্যমে খুবই সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় রসালো ও চিত্তাকর্ষক বক্তব্য রাখিতেন। স্বরুপকাঠী নেছারাবাদ থানার অন্তরগত বাটনাতলা সির্বাচনী সভায় খুবই সংক্ষিপ্ত ও চিত্তাকর্ষক বক্তব্য রাখিতেন। স্বরুপকাঠী নেছারাবাদ থানার অন্তরগত বাটনাতলা নির্বাচনী সভায় খুবই সংক্ষিপ্ত ও চিত্তাকর্ষক বক্তব্য দিলেন।pak

বরিশালের ভাষায় তিনি বলিলেন, ”আপনারা হগলে জানেন মোগো যুক্তফ্রন্টের মার্কা নৌকা। নির্বাচনী এলাকায় মোগো প্রার্থী চিত্তররঞ্জন সুতারকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়া জয়যুক্ত করুন।’ ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ঐতিহাসিক বিজয় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার মানিয়া লইতে পারিল না। তাহারা শংকিত হইল যে, পূর্ব পাকিস্তানকে আর শোষন করা যাইবে না।

পূর্ব পাকিস্তানের উৎপাদিত সোনালি অাঁশ পাট রপ্তানিকৃত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করা হইয়াছে পশ্চিম পাকিস্তানের কল কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলার জন্য ও নতুন রাজধানী ইসলামাবাদ নগরী সৃষ্ঠির জন্য। চাকুরী হইতে শুরু করিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ব পাকিস্তানকে প্রবঞ্চিত করিয়াছে পাক কেন্দ্রীয় সরকার।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com