দেশের শিক্ষিত তরুণদের বড় অংশ বঞ্চিত-দেশের টাকা বিদেশে পাচার

 

এ তাহের : একসময় দেশের মেধা পাচারের অভিযোগ শোনা যেত। এখন দেশেই উপেক্ষিত কর্মক্ষম শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ। বিদেশি 1প্রতিষ্ঠান তো বটেই, দেশের অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানে উপেক্ষিত দেশের দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবীরা।

প্রতিবছর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করে বেরিয়ে অনেকেই চাকরির বাজারে হন্যে হয়ে ঘুরলেও দেশের প্রতিষ্ঠানে কদর বাড়ছে বিদেশিদের। এমনকি কম যোগ্যতার বিদেশিদেরও বেশি বেতন দিয়ে চাকরি দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব বিদেশির অনেকেরই আবার বাংলাদেশে বসবাস অবৈধ।

অনেকেই নিজেদের দেশে টাকা পাঠাচ্ছে অবৈধভাবে। আর কিছুসংখ্যক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদেশপ্রীতির কারণে দেশের শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশের টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। অথচ অবৈধ বিদেশি কর্মী ও অবৈধভাবে টাকা পাচারের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষীয় নজরদারি আছে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশে ইপিজেড, এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে পরিমাণ বিদেশি কর্মীর কাজ করার কথা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি কর্মী কাজ করে বলে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কতজন বিদেশি কর্মী বাংলাদেশে কাজ করছে, তারও সঠিক তথ্য সরকারের কোনো বিভাগের কাছে নেই।

দেশে বিদেশি কর্মীদের কাজ করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু তা করতে হবে নিয়ম মেনে। কোনো প্রতিষ্ঠানে বিদেশি কর্মী কাজ করতে চাইলে তাকে সরকারের কাছ থেকে ওয়ার্ক পারমিট নিতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে কর্মরত বেশির ভাগ বিদেশি কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট নেই। এদের বেশির ভাগই আসে ভ্রমণ ভিসা নিয়ে। নিয়োগদানকারী প্রতিষ্ঠানও এ ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে বিদেশি কর্মীদের সহায়তা দিয়ে থাকে।

বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের আইন মানা হয় না। বেশির ভাগ বিদেশি কর্মীর বেতন-ভাতা দেওয়া হয় রাজস্বমুক্ত বিভিন্ন খাত থেকে। অনেক বিদেশি কর্মী ভ্রমণ ভিসায় বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে অপরাধকর্মের সঙ্গেও জড়িত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি বিদেশিদের অপরাধের সঙ্গে জড়িত হওয়ার অনেক প্রমাণও মিলেছে।

যেসব ক্ষেত্রে কাজ করতে বিদেশিরা বাংলাদেশে আসছে, সেসব ক্ষেত্রে দেশেই অনেক যোগ্য ও দক্ষ মানুষ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেশের দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি কাজ করছে অপেক্ষাকৃত কম দক্ষ বিদেশিদের অধীনে। দেশে যোগ্য লোক পাওয়া গেলে তাদের নিয়োগ প্রদানের নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না। দেশের আইন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ, এমন অভিযোগ রয়েছে।

আমরা আশা করব, দেশের দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তিকে দেশে কাজে লাগানো হবে। দেশের মেধাবীদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা হবে। তাতে দেশের মুদ্রার বড় অংশ বিদেশে চলে যাবে না। দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে বিদেশে মেধা পাচারও বন্ধ হবে। দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি কর্মীপ্রীতি কমিয়ে দেশের মেধাবীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অবৈধ বিদেশিদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com