খালেদা’র ডিভিশনে বরাদ্দ ১১৫ টাকা

 

কোর্ট রিপোর্টার : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কে মহিলা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আইজি প্রিজন বলেছেন, জেলকোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর khalada jail-www.jatirkhantha.com.bdডিভিশন এর কোন প্রভিশন নেই-তবে রাস্ট্রপতির রয়েছে। এজন্য খালেদা জিয়াকে জেলকোড অনুযায়ী ডিভিশন দিতে কোন প্রক্রিয়া খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। তবে এজন্য তিনি সরকারের ওপর মহলে যোগাযোগ করছেন। এ দিকে খালেদা জিয়াকে শনিবার দিনগত রাতে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপারের কক্ষ থেকে মহিলা ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রোববার কারা অধিদফতরের মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন অনলাইন দৈনিক জাতিরকন্ঠকে এতথ্য জানান।

????????????????????????????????????????????????কারা সূত্রে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে খালেদা জিয়া পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের তিনতলা মহিলা ওয়ার্ডের দ্বিতীয় তলার ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখার প্রস্তুতি নেয় কারা অধিদফতর। তবে গত বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণার পর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত থেকে খালেদা জিয়াকে নিয়ে পুরনো কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা হয়।

কিন্তু শুক্রবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কারা কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়ার যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা তা সিনিয়র জেল সুপারের কক্ষে নেই। এ অভিযোগ পাওয়ার পর পরই খালেদা জিয়াকে ডে-কেয়ার সেন্টারে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে।

Khalada jia-www.jatirkhantha.com.bdএদিকে শনিবার বিকালে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে একটি নির্জন ভাঙা বাড়িতে রাখা হয়েছে। উনার খাবারের ক্ষেত্রেও কোনো পরিবর্তন নেই। সাধারণ বন্দিরা যে খাবার পান, তাকেও সেই খাবার দেওয়া হচ্ছে। ম্যাডাম এসব খাবারে অভ্যস্ত নয়। পরে রোববার সকালে খালেদা জিয়ার ডিভিশন চেয়ে বিশেষ জজ আদালত ৫-এ আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জেলকোড অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

আদালতের এ আদেশের পর রোববার দুপুরে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন জানান, রায়ের কপি এখনও হাতে আসেনি। তাই খালেদা জিয়াকে সাধারণ বন্দির মতো রাখা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, কারাগার থেকেই খালেদা জিয়াকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুষ্ক খাবার তাকে দেয়া হলেও বাইরের অন্য কোনো খাবার তাকে দেয়া যাবে না।

খালেদা জিয়ার জন্য ব্যক্তিগত কোনো সেবিকা রাখা না হলেও চিকিৎসার জন্য একজন নার্স রাখা হয়েছে বলে জানান আইজি প্রিজন্স।খালেদা জিয়ার ডিভিশনের বিষয়ে আইজি প্রিজন্স উল্লেখ করেন, সাবেক প্রেসিডেন্টের ডিভিশন পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ডিভিশন পাওয়ার বিষয়টি জেলকোডের কোথাও উল্লেখ নেই।

তবে-

কারা অধিদফতর জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ পাওয়ায় খালেদা জিয়াকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে ডিভিশন দেয়া হবে। কারাসূত্র জানিয়েছে, জেলকোডের অধ্যায় ২৭, রুল ৯১০(১) অনুযায়ী খালেদা জিয়া ডিভিশন-১ বন্দির মর্যাদা পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি পছন্দের খাবার, বিছানা, দৈনিক পত্রিকা, চেয়ার-টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, পছন্দের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন প্রথম শ্রেণির একজন বন্দি হিসেবে ১৫ দিনের পরিবর্তে ৭ দিনে একবার চিঠি লেখার সুযোগ পাবেন।খালেদা জিয়া একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে সকালে ৮৭ গ্রাম আটার রুটি ও ৮৭ গ্রাম ডাল-সবজি পান। দুপুর ও রাতে ৪৯৫ গ্রাম সরু চালের ভাত, ২১৮ গ্রাম মাছ-মাংস এবং সারা দিনে প্রায় ১৪৫ গ্রাম ডাল পাবেন।এ ছাড়া তেল, লবণ, মরিচসহ সব মিলিয়ে তিনবেলা খাবার বাবদ একজন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয় ১১৫ টাকা।

 

 

 

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com