আমরা মাতৃভাষার আন্তজার্তিক স্বীকৃতি আদায় করেছি:হাসিনা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের  শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপবিষ্ট বাংলাপ্রকাশের প্রকাশক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, অমিকন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শরীফ উল আলম প্রমুখ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপবিষ্ট বাংলাপ্রকাশের প্রকাশক প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, অমিকন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শরীফ উল আলম প্রমুখ

বিশেষ প্রতিনিধি :  কবিতা, গল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ-গবেষণাসহ নানা বিষয়ের বাহারি মলাটে মোড়ানো বই নিয়ে  আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মাসব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের  শুভ উদ্বোধন ঘোষণাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মাতৃভাষার আন্তজার্তিক স্বীকৃতি আদায় করেছি। এখন একুশে ফেব্রুয়ারী শুধু আমাদের শহীদ দিবসই নয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। শেখ হাসিনা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ওই সময়ের দিনলিপি উপস্থিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরেন। ভাষা আন্দোলনে ছাত্র সমাজের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন তিনি।

যুবজাগরণ স্টলের সামনে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা, পাশে বাংলাপ্রকাশের প্যাভিলিয়নের একাংশ

যুবজাগরণ স্টলের সামনে যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীসহ নেতাকর্মীরা, পাশে বাংলাপ্রকাশের প্যাভিলিয়নের একাংশ

শেখ হাসিনা বলেন, সাহিত্য চর্চা পারে যুব-সমাজকে সঠিক পথে ধরে রাখতে। বই পারে আমাদের চিন্তা চেতনাকে বিকশিত করতে। আজ আমরা অসাম্প্রদায়িক জাতি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছি, আর কখনও বাংলাদেশে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না।বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনেরও শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান এবং সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

 অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা


অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ হাসিনা বলেন, সালাম ও রফিক নামের দু’জন প্রবাসী বাংলাদেশি এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালে ‘বাংলা’ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার সম্মান লাভ করে। ৭৫’এ বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতি বিশ্বদরবারে খুনি জাতির পরিচিতি লাভ করেছিলো। আজ আবারও আমরা আমাদের ভাবমূর্তি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে পেরেছি। বিশ্বে বাংলাদেশ আজ অসাম্প্রদায়িক একটি দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকায় ইচ্ছে থাকলেও মেলায় আসতে পারেন না বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এর পাশাপাশি, শিশুদের মাঝেও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।প্রযুক্তি নির্ভর সাহিত্য চর্চায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ’ও তুলে ধরেন তিনি।

01-02-18-PM_Book Fair Openning-49 বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-
এবছর ১০ বিভাগে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন। যারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে পুরস্কার স্মরক গ্রহণ করেন। তারা হলেন: কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হোসাইন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিকুল্লাহ খান, অনুবাদসাহিত্যে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণ কাহিনীতে শাকুর মজিদ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীতে মোশতাক আহমেদ, নাটকে মলয় ভৌমিক এবং শিশুসাহিত্যে ঝর্নাদাশ পুরকায়স্থ।

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করছেন ডিএমপি'র গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করছেন ডিএমপি’র গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের এগনিস মিডোসম, ক্যামেরুনের ড. জয়েস অ্যাসউন টেনটেন, মিশরের ইব্রাহিম এলমাসরি ও সুইডেনের অরনে জনসন।  অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এবার প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট এলাকায় ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৫টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৩৬টি লিটল ম্যাগাজিনকে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাংলা একাডেমিসহ মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকছে। এই কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও ‘শিশুপ্রহর’ ঘোষণা করা হবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ।
27459542_10159927284770634_4017456405046859605_n
মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘প্রতিবারই লক্ষ্য থাকে আগের চেয়ে আরও সুন্দর ও গোছানো মেলা উপহার দেওয়ার। এবারেও সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করছি, বিশাল পরিসরের এ মেলা এবার অন্য যে কোনোবারের চেয়ে নান্দনিক ও সফল হবে।’

এবার বইমেলা প্রতিদিন দুপুর তিনটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ও সরকারি ছুটির দিন সকাল ১১টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য এক ঘণ্টার বিরতি থাকবে।মেলার মূলমঞ্চে প্রতিদিনই থাকছে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট লেখক, সাহিত্যিক, গবেষক, চিন্তাবিদ ও কবিরা অংশ নেবেন। একাডেমির নিজস্ব দুটি ক্যান্টিন দর্শকদের জন্য সর্বক্ষণ খোলা থাকবে।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com