অলরাউন্ডার সাকিব দুর্নীতি রুখবে

এস রহমান :   ব্যাট-বলে ক্রিকেট দুনিয়া মাতানো সাকিব আল হাসান এবার রুখবে দুর্নীতি। দুর্নীতি নির্মূলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের dudok-sakib-www.jatirkhantha.com.bd.11(দুদক) শুভেচ্ছাদূত হলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।রবিবার দুদক কার্যালয়ে চুক্তি সই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাকিবকে শুভেচ্ছাদূত করা হয়। চুক্তিতে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গে দুদকের পক্ষ থেকে চুক্তিতে সই করেন কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) জাফর ইকবাল।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী সাকিব দুই বছরের জন্য শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন।চুক্তি অনুসারে জণগনকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ করতে দুদকের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকবেন সাকিব। তরুণ সমাজের মধ্যে শুদ্ধাচার চর্চা, দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠাবোধ, ন্যায়পরায়ণতা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা  দেবেন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে জনগণের সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করবেন।

সততা স্টোর, গণশুনানি, সততা সংঘ, গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান ও মানববন্ধনসহ  দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভিন্ন  কার্যক্রমের  সম্প্রসারণ ও গতিশীলতা আনতে প্রচারে সহায়তা করবেন সাকিব। গণমাধ্যম ও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দুদকের দুর্নীতিবিরোধী বার্তা অথবা মতাদর্শ ছড়িয়ে দেবেন তিনি।গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর দুদক কার্যালয়ে এলে সাকিবকে শুভেচ্ছাদূত হওয়ার প্রস্তাব দেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। বলেন, ‘আপনি দেশের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর আইকন। তাই আপনাকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে তরুণদের মধ্যে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’
dudok-sakib-www.jatirkhantha.com.bd
চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়ে সাকিব আল হাসানও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজের অংশ নেয়ার ইচ্ছার কথা জানান। বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের যেকোনো কর্মসূচিতে আমি আসব।’এর পাঁচ মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে সাকিবকে দুদকের শুভেচ্ছাদূত করা হলো।বেলা ১১টায় সাকিবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সাকিবের অংশগ্রহণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই আরও কার্যকর হবে।‘বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান এদেশের গর্ব এবং যুবসমাজের অনুপ্রেরণা। যুব সমাজ যদি সাকিব আল হাসানের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তাহলে কার সাধ্য আছে দুর্নীতি করার?’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়ার জন্যই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আগামী প্রজন্মের সোনালী ভবিষ্যৎ কতিপয় দুর্নীতিবাজের হাতে শৃঙ্খলিত থাকতে পারে না। কমিশন সকলের সহযোগিতায় দুর্নীতি পরায়ণদের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।’সাকিব বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্ববোধ করছি। আমার প্রচেষ্টায় একজন মানুষেরও যদি উপকার হয় অথবা একটি দুর্নীতিও যদি প্রতিরোধ করতে পারা যায় তাহলেই নিজেকে স্বার্থক মনে করব।’

‘আজ থেকে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গঠনে নতুনভাবে পথচলা শুরু হলো। দুর্নীতিমুক্তভাবে দেশের উন্নয়নে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করব।’
বাংলাদেশে সাকিবের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক সচেতনতা গড়ার চেষ্টা চলছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগ শিক্ষা কার্যক্রমের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ শুরু করেন সাকিব।জাতিসংঘের সংস্থা ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবেও শিশুদের কল্যাণে কাজ করে আসছেন সাকিব। এ ছাড়া অনিস্টিক শিশুদেরকে নিয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও অবদান রেখে যাচ্ছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

২০০৬ সালে  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় এই বাম-হাতি ক্রিকেটারের। ক্যারিয়ারে ৫১ টেস্টে তিন হাজার ৫৯৪ রান ও ১৮৮ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ১৮৬ ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ পাঁচ হাজার ২৪৩ রান। শিকার করেছেন ২৬৫ উইকেট। অন্যদিকে ৬১ টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার ২২৩ রান নিয়ে ৭৩টি উইকেট দখল করে নিয়েছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com